২০১৬ সালের ১লা জুলাই ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে ঘটে যাওয়া নৃশংস হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু কী হবে যদি বলা হয়, এই পুরো ঘটনাই ছিল এক বিরাট ভুল বোঝাবুঝি? কী হবে যদি এই ঘটনার পেছনের কুশীলবদের ‘জঙ্গি’ নয়, বরং ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়? আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি ঠিক এই উদ্ভট তত্ত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি।
এই রম্যটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর বয়ান, যিনি দাবি করছেন, হোলি আর্টিজানের তরুণরা জঙ্গি ছিল না। তারা ছিল দেশপ্রেমিক ‘জুলাই যোদ্ধা’, যারা সেদিন নিজেদের জীবন বাজি রেখে এক ভয়ঙ্কর আন্তর্জাতিক ছিনতাইকারী চক্রকে ধরতে গিয়েছিল। তাদের হাতের অস্ত্রগুলো ছিল ‘প্যাট্রিয়টিক অ্যারেস্ট ইকুইপমেন্ট’ এবং নিহত বিদেশিরাই ছিল সেই কুখ্যাত ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। এই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কীভাবে পাকিস্তানপন্থী রাজাকাররা বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা অবৈধভাবে দখল করে, সত্যকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়ে নিজেদের মতো করে এক নতুন ‘ইতিহাস’ রচনা করছে এবং পূর্ববর্তী সরকারকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে তুলে ধরছে। এই অসাধু কর্মকান্ড আমাদের সমাজের সেই বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করে, যেখানে ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে ইতিহাসের সত্যও পরিবর্তিত হয়ে যায়।
এই প্রতিবেদনের ক্যানভাস আরও বিস্তৃত হয়েছে যখন এর সাথে যুক্ত হয়েছেন, সদ্য ক্ষমতা দখলকারী নব্য রাজাকারদের ‘ইতিহাস ও সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার সেলের’ স্বঘোষিত মহাপরিচালক এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা, ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার অমর পরিচালক, আল্লামা বউ ব্যবসায়ী হুজুরে কেবলা । যে ‘শনিবার বিকেল’ চলচ্চিত্রটি মুক্তির জন্য তিনি একসময় সোচ্চার ছিলেন, ক্ষমতার অংশ হয়ে এখন তিনিই সেটিকে মুক্তি না দেওয়ার পক্ষে ‘শৈল্পিক’ যুক্তি দাঁড় করান। তার ভাষ্যমতে, সিনেমাটি ছিল গুলশানের দেশপ্রেমিক জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে বানানো, কিন্তু এখন যেহেতু রাষ্ট্র নিজেই সেই সত্য প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে, তাই সিনেমার আর কোনো প্রয়োজন নেই। এই অংশটি ক্ষমতাবান বুদ্ধিজীবীদের সুবিধাবাদী অবস্থান এবং শিল্পের রাজনৈতিক ব্যবহারকে ব্যঙ্গ করে প্রতিবেদনটিকে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করে তুলেছে।
এই প্রতিবেদনটি নিছক হাসির খোরাক নয়, বরং এটি একটি ডার্ক কমেডি যা দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করে। আমাদের লক্ষ্য হলো, রম্য ও স্যাটায়ারের শক্তিশালী অস্ত্রের মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি, ভণ্ডামি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। রম্য প্রতিবেদনটি উপভোগ করুন এবং দেখুন কীভাবে সত্য ও মিথ্যার সীমানা হাস্যকরভাবে ঝাপসা হয়ে যায়।
#Cartunus Daily, #Dhaka Attack, #ইউনূস সরকার, #ইতিহাস বিকৃতি, #কার্টুনুস ডেইলি, #গুলশান হামলা ২০১৬, #ছিনতাইকারী দমন, #জঙ্গি দমন অভিযান, #জুলাই যোদ্ধা, #জুলাই ষড়যন্ত্র, #ড. মুহাম্মদ ইউনূস, #ডক্টর ইউনূস, #ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস, #ডিএমপি কমিশনার, #ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, #দেশপ্রেমিক তরুণ, #নতুন ইতিহাস, #বাংলা স্যাটায়ার, #বাংলাদেশের রাজনীতি, #মেটিকুলাস ডিজাইন, #মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, #রম্য রচনা, #রাজনৈতিক স্যাটায়ার, #শনিবার বিকেল, #শেখ মো সাজ্জাত আলী, #হোলি আর্টিজান