সাদাপাথর, ভোলাগঞ্জ (সিলেট) থেকে বিশেষ প্রতিনিধি: ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে আজ সিলেটের ভোলাগঞ্জ প্রস্তুত ছিল এক অভূতপূর্ব উৎসবের জন্য। দেশের আগামী পাঁচ হাজার বছরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গৃহীত যুগান্তকারী প্রকল্প ‘ড. ইউনূস পিরামিড ও অবিনশ্বর সচিবালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভোর থেকেই এখানে নেমেছিল উৎসবের আমেজ। প্রকল্প এলাকা ঘিরে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আকাশে উড়ছিল পর্যবেক্ষণকারী ড্রোন, আর আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ছিল শত শত স্বেচ্ছাসেবক।
চারিদিকে রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গিয়েছিল পুরো এলাকা। ব্যানারে শোভা পাচ্ছিল বিভিন্ন মনোগ্রাহী স্লোগান—‘গণতন্ত্রের সমাধি এখানেই, স্থিতিশীলতার শুরু এইখানেই’, ‘নির্বাচনের দরকার নাই, মমিতেই মুক্তি’, ‘মমিতেই সমৃদ্ধি’। সুবিশাল এক এলইডি স্ক্রিনে তখন থেকেই দেখানো হচ্ছিল পিরামিডের একটি কম্পিউটার-জেনারেটেড অ্যানিমেশন, যার চূড়া থেকে ঠিকরে পড়ছিল ঐশ্বরিক আভা। বিদেশি কূটনীতিক থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি এবং দূর-দূরান্ত থেকে বাসে করে আনা ‘ছাত্র জনতা’র উপস্থিতিতে প্রকল্প এলাকাটি এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী দ্বারা নির্ধারিত শুভক্ষণ, বেলা ১১টা বেজে ১১ মিনিটে, স্বর্ণখচিত একটি ক্রেন দিয়ে ভিত্তিপ্রস্তরটি স্থাপন করা হয়। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের পর প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রকল্প পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, “আজ অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, আমরা একটি নদীকে ধ্বংস করে পিরামিড বানাচ্ছি। আমি বলি, আমরা ধ্বংস করছি না, আমরা রূপান্তর করছি। একটি নদী আজ আছে, কাল শুকিয়ে যেতে পারে, গতিপথ বদলাতে পারে। নদীর সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী ও পরিবর্তনশীল। কিন্তু একটি পিরামিড লক্ষ বছরেও এক ইঞ্চি নড়বে না। এটাই হলো চূড়ান্ত পর্যায়ের সাসটেইনেবিলিটি বা স্থায়িত্ব। কেউ কেউ নদীর মাছের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। আমি তাদের প্রশ্ন করি, একটি মাছ কি কখনো একটি জাতি গঠন করতে পারে? পারে না। কিন্তু একটি পাথর সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করে। আমরা ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যের বদলে চিরস্থায়ী সভ্যতাকে বেছে নিয়েছি। পিরামিডই হলো চূড়ান্ত পরিবেশবাদ!”
তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতা মুহুর্মুহু করতালিতে ফেটে পড়ে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত অর্থ উপদেষ্টা জানান, প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহের জন্য ‘অমরত্ব বন্ড’ ছাড়া হয়েছে, যা কিনে দেশবাসী এই মহাযজ্ঞের অংশীদার হতে পারবেন। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি প্রকল্পে বিনিয়োগ নয়, এটি আপনার নাতির নাতির নাতির ভবিষ্যতের নিশ্চয়তায় বিনিয়োগ। প্ল্যাটিনাম বন্ড কিনলে আপনার নাম পিরামিডের একটি পাথরে খোদাই করা থাকবে।”
সদ্য ক্ষমতা দখলকারী নব্য রাজাকারদের ‘ইতিহাস ও সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার সেলের’ স্বঘোষিত মহাপরিচালক এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা, আল্লামা বউ ব্যবসায়ী হুজুরে কেবলা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, পিরামিডের দেয়ালে খোদাই করার জন্য ‘জাতীয় হায়ারোগ্লিফিক্স ডিজাইন প্রতিযোগিতা’র আয়োজন করা হবে এবং ‘মমিকরণ ও সমাধিশিল্প মন্ত্রণালয়’ নামে একটি নতুন মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাবও কার্যতালিকাতে রাখা হয়েছে।
সাংস্কৃতিক পর্বে ‘অমর শাসনের গান’ শিরোনামে প্রকল্পের থিম সং পরিবেশন করা হয়। গানের মূলভাব ছিল ‘নেই কোনো ভোটের বালাই, নেই মিছিলের ঝামেলা/ পিরামিডের ছায়ায় মোদের কাটবে হাজার বেলা’। এরপর একদল নৃত্যশিল্পী ‘পাথর উত্তোলনের ছন্দ’ নামে একটি মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করে, যা দেখে দর্শকরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কথা হয় স্থানীয় ‘ভোলাগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’-এর ‘অ্যাডভান্সড স্টোন পলিশিং’ বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র রহমতের সাথে। সে জানায়, “আগে এলাকার পোলাপান বড় হইয়া ড্রাইভার-হেলপার হইতে চাইত। অহন আমরা সবাই পিরামিড ইঞ্জিনিয়ার হইতে চাই। আমাদের ভবিষ্যৎ পাথরের মতো মজবুত।”
সব মিলিয়ে, একটি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশের নতুন ভবিষ্যতের ভিত্তি স্থাপিত হলো। এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে সরকার ‘অনিশ্চয়তার যুগ’-এর সমাপ্তি এবং ‘চিরস্থায়ী স্থিতিশীলতার মহাযুগ’-এর সূচনা ঘোষণা করেছে, এই পিরামিডে শায়িত থেকেই ড. ইউনূস হাজার হাজার বছর ধরে জাতিকে পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
#Cartunus Daily, #অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, #ইউনূস রেজিম, #ইউনূস সরকার, #ইউনূসের পিরামিড, #এনসিপি, #কার্টুন, #কার্টুনুস ডেইলি, #জাতীয় পাথর, #ড. ইউনূস, #ড. মুহাম্মদ ইউনূস, #ডক্টর ইউনূস, #পাথর চুরি, #প্রধান উপদেষ্টা, #বাংলাদেশ, #ভোলাগঞ্জ, #মমি প্রকল্প, #যৌথ বাহিনী, #রম্য, #রম্য কার্টুন, #রাজনৈতিক রম্য, #রাজনৈতিক স্যাটায়ার, #রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, #রিজওয়ানা হাসান, #সাদাপাথর, #সেনাবাহিনী, #সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, #স্যাটায়ার, #হাজার বছরের শাসন