সারোয়ার তুষার ও রিফাত রশিদের যুগলবন্দি এবং ‘লাগানো’ তত্ত্বের আদ্যোপান্ত।
বাংলাদেশের রাজনীতি এক অদ্ভুত রঙ্গমঞ্চ, যেখানে প্রতিদিন জন্ম নেয় নতুন নতুন নাটকীয়তার। তবে সম্প্রতি এমন এক তত্ত্বের আবির্ভাব ঘটেছে, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন বন্দোবস্ত তৈরি করেছে। বলছি সারোয়ার তুষারের বিখ্যাত ‘লাগানো তত্ত্বের’ কথা। একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপ থেকে কীভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘রাজনৈতিক দর্শন’ জন্ম নিতে পারে, তা জানতেদেখুন আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি।
তত্ত্বের জন্ম: একটি নিরীহ প্রশ্ন থেকে দর্শন! ঘটনার সূত্রপাত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারোয়ার তুষারের একটি ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ থেকে। যেখানে তার একটি ব্যক্তিগত প্রশ্নকে ‘তুমি কি আমাকে লাগাতে দিবা‘ কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আমাদের এই প্রতিবেদনে আমরা দেখিয়েছি, কীভাবে এই সাধারণ প্রশ্নটি ‘গণতান্ত্রিক সম্মতি’, ‘পারস্পরিক আস্থা’ এবং ‘নারী সহযোদ্ধার বিপ্লবী চেতনা’ পরীক্ষার এক জটিল মাপকাঠিতে পরিণত হয়েছে। তুষারের ভাষ্যে, এটি কোনো সাধারণ প্রশ্ন নয়, বরং এটি প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের পর রাজনীতির সবচেয়ে বড় দার্শনিক সংযোজন!
তত্ত্বের বিস্তার ও নতুন শিষ্য: গুরু-চ্যালা যুগলবন্দি কোনো তত্ত্বই একজন মাত্র অনুসারী নিয়ে পূর্ণতা পায় না। ‘লাগানো তত্ত্বের’ ক্ষেত্রে সেই অভাব পূরণ করতে এগিয়ে আসেন ছাত্রনেতা রিফাত রশিদ। যার বিরুদ্ধেও রয়েছে নারীঘটিত কেলেঙ্কারি এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগ। আমাদের প্রতিবেদনে রিফাত রশিদ আবির্ভূত হয়েছেন তুষার-দর্শনের প্রথম ও প্রধান শিষ্য হিসেবে। তিনি তার নিজের ‘বুবিসে মেহেন্দি লাগানো’ কেলেঙ্কারিকে তুষারের ‘লাগানো তত্ত্বের’ এক পরিপূরক অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘ভাইরাল ডিফেন্স থিওরি’। তার মতে, সম্মতি আদায়ের জন্য ‘লাগানোর’ প্রস্তাব যেমন জরুরি, তেমনি সেই সম্মতিকে রক্ষা করার জন্য ‘পার্সোনাল ছবি ভাইরালের’ মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও অপরিহার্য। এই দুই তত্ত্বের মেলবন্ধনে বাংলাদেশের রাজনীতি এক নতুন দিশা খুঁজে পেয়েছে বলে দাবি করেন বুবিস রিফাত।
‘লাগানো একাডেমি’: ভবিষ্যতের পাঠক্রম একটি তত্ত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজন একটি একাডেমি। আর তাই তুষার-রিফাতের যুগলবন্দিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘জাতীয় লাগানি তত্ত্ব গবেষণা ও প্রশিক্ষণ একাডেমী’। এই একাডেমির পাঠ্যসূচিও বেশ চমকপ্রদ। ‘পরিপ্রেক্ষিত নির্মাণ ও প্রয়োগ’, ‘সম্মতি আদায়ের বিপ্লবী কৌশল’ থেকে শুরু করে ‘প্রতিরক্ষামূলক ভাইরালকরণ’ কী নেই সেই সিলেবাসে! প্রতিবেদনে এই একাডেমির পাঠ্যক্রম বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
চূড়ান্তভাবে, নীলা ইসরাফিলের অডিও ফাঁস থেকে জন্ম নেওয়া সারোয়ার তুষারের এই ‘লাগানো তত্ত্ব’ রাজনীতির ময়দানে একটি আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে। তবে সেই আলোচনাকে আমরা সিরিয়াস ভঙ্গিতে না দেখে, রম্যের মোড়কে উপস্থাপন করেছি। আমাদের এই প্রচেষ্টা আপনাদের কেমন লাগলো, তা ভিডিওটি দেখে নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।