মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর অ্যাপেন্ডিক্স শনাক্ত, কিন্তু আসিফ নজরুলের সন্দেহ অন্যদিকে!
নিজস্ব প্রতিবেদক: সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান যখন সদ্য ক্ষমতা দখলকারী নব্য রাজাকারদের ‘ইতিহাস ও সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার সেলের’ স্বঘোষিত মহাপরিচালক, অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার পতিদেব, এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা আল্লামা বউ ব্যবসায়ী হুজুরে কেবলা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর আকস্মিক অসুস্থতায় চিন্তিত, ঠিক তখনই চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করিয়া বসিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা, চিকিৎসকদের প্রতি তীব্র বিষোদগারকারী, অনর্থক টেস্ট বিরোধী আন্দোলনের স্বঘোষিত প্রবর্তক এবং ঔষধ কোম্পানির দালাল আখ্যায় চিকিৎসকদের ভূষিত করা মহান রাষ্ট্রচিন্তাবিদ, ডক্টর আসিফ নজরুল। দেশের সেরা চিকিৎসকদের দ্বারা গঠিত মেডিকেল বোর্ড যখন সর্বসম্মতিক্রমে রায় দিয়াছে যে, অ্যাপেন্ডিক্সের প্রদাহই ফারুকীর অসুস্থতার কারণ, তখন আইন উপদেষ্টা এই রায়কে এক পশ্চাৎদেশীয় ষড়যন্ত্র বলিয়া অভিহিত করিয়া নিজেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ভার নিজ কাঁধে তুলিয়া নিয়াছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কক্সবাজারে। সংস্কৃতি হাব বিষয়ক অতীব জরুরি কর্মশালায় যোগদান করিয়া নির্মাতা ফারুকী, যিনি কিনা ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ সিনেমার পরিচালক হইয়াও নিজের পেটের ভেতরের সামান্য অ্যাপেন্ডিক্সের ষড়যন্ত্র বুঝিতে পারেন নাই, তিনি আকস্মিক অসুস্থ হইয়া পড়েন। অতঃপর সরকারি খরচে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করিয়া উনাকে ঢাকার সবচেয়ে দামী হাসপাতালে আনা হইলে তাহার সহধর্মিণী, ফেসবুকে স্বামীর স্বাস্থ্য বুলেটিন নিয়মিত প্রকাশকারী পতিব্রতা স্ত্রী ও রিলের বঙ্গমাতা নুসরাত ইমরোজ তিশা দেশবাসীর নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কালবিলম্ব না করিয়া দেশের সেরা গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট, সার্জন ও অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের লইয়া এক উচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেন। বোর্ড ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন টেস্টের রিপোর্ট পর্যালোচনা করিয়া, নিজেদের মধ্যে তুমুল তর্কবিতর্ক করিয়া এবং অবশেষে হাসপাতালের ক্যান্টিন হইতে দশ কাপ কফি ও পাঁচ প্লেট সিঙ্গারা খাইয়া এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, জনাব ফারুকীর অ্যাপেন্ডিক্স নামক ক্ষুদ্র অন্ত্রটি আর শরীরে থাকিতে চাহিতেছে না, উহাকে অবিলম্বে অস্ত্রোপচার করিয়া শরীর হইতে খেদাইয়া দিতে হইবে।
এই খবর গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষোভে ফাটিয়া পড়েন আইন উপদেষ্টা ডক্টর আসিফ নজরুল। তিনি তাহার কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই মেডিকেল বোর্ড একটি ভুয়া বোর্ড! ইহা একটি টেস্ট ব্যবসায়ী ও ঔষধ কোম্পানির দালালদের সিন্ডিকেট! আমি আমার এক নিম্ন আয়ের কর্মচারীকে দেখিয়াছি, সামান্য সর্দিকাশির জন্য তাহাকে চৌদ্দটি টেস্ট দিয়াছিল। ফারুকীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটিতেছে। উনার আসল রোগ গোপন করিয়া অ্যাপেন্ডিক্সের নামে নাটক সাজানো হইয়াছে।”
সাংবাদিকরা বিস্ময়ে হতবাক হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “তাহলে উনার আসল রোগটা কী বলিয়া আপনি মনে করেন?”
জবাবে আইন উপদেষ্টা, যিনি কিনা চিকিৎসা শাস্ত্রের সকল ডিগ্রি ছাড়াই কেবল অনুমানের উপর ভর করিয়া পশমোলজি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হইয়া উঠিয়াছেন, তিনি টেবিলের উপর সজোরে এক কিল মারিয়া বলিলেন, “আপনারা কি অন্ধ? ঘটনার স্থান কোথায়? কক্সবাজার! সমুদ্রসৈকত! আপনারা কি বুঝিতে পারিতেছেন না? কক্সবাজারের বালুকাবেলায় নিশ্চয়ই কোনো অঘটন ঘটিয়াছে। ফারুকী সাহেব হয়তো বালির উপর আছাড় খাইয়াছেন, কিংবা বিচে রাখা কোনো বেগুন সদৃশ বস্তুর উপর বসিয়া পড়িয়াছেন। উনার সমস্যা পেটে নহে, উনার সমস্যা পশ্চাৎদেশে! ডাক্তাররা টাকার লোভে সেই সত্য গোপন করিতেছে।”
এই বলিয়াই তিনি হুঙ্কার দিয়া উঠিলেন, “দেশের গরিব মানুষের গলা কাটিতে কাটিতে উহারা এখন উপদেষ্টার গলাতেও হাত দিয়াছে! আমি আসিফ নজরুল বাঁচিয়া থাকিতে এই অবিচার হইতে দিব না। আমি নিজেই ফারুকীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলাম।”
যেমন কথা তেমন কাজ। পরদিন সকালে আইন উপদেষ্টা এক হাতে আইনের বই এবং অন্য হাতে একটি বিশাল আকারের সিরিঞ্জ লইয়া হাসপাতালে গিয়া হাজির হইলেন। তাহার সঙ্গে ছিল তাহার নিজস্ব “বিকল্প চিকিৎসা বোর্ড”, যাহাতে সদস্য হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক, একজন চারুকলার শিক্ষার্থী এবং উপদেষ্টার বাড়ির এক বিশ্বস্ত কাজের লোক। হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিতে আসিলে তিনি ধমক দিয়া বলিলেন, “পথ ছাড়! দেশের একজন নাগরিকের উপর চিকিৎসা নামের অত্যাচার চলিতেছে, আর আমি আইন উপদেষ্টা হইয়া চুপ করিয়া থাকিব? ইহা হইতে পারে না।”
তিনি সোজা ফারুকীর কেবিনে প্রবেশ করিয়া দেখিলেন, সেখানে জনাব ফারুকী ব্যথায় কাতরাইতেছেন এবং তাহার শিয়রে বসিয়া স্বামীর অসুস্থতায় দেশবাসীর নিকট দোয়া প্রার্থনাকারী মহিয়সী নারী নুসরাত ইমরোজ তিশা তাহার মাথায় জলপট্টি দিতেছেন। আসিফ নজরুলকে সিরিঞ্জ হাতে প্রবেশ করিতে দেখিয়া তিশা আঁতকাইয়া উঠিয়া বলিলেন, “আসিফ আংকেল আপনার হাতে ওইটা কী?”
আইন উপদেষ্টা গম্ভীর কণ্ঠে বলিলেন, “ভয় পাইবেন না ভগিনী, আমিই আইন। আমিই আদালত। আমি আসিয়াছি আপনার স্বামীর উপর হইতে চলা অবিচারের নিষ্পত্তি করিতে।” এই বলিয়া তিনি ফারুকীর দিকে আগাইয়া গিয়া তাহার পেটে হাত না দিয়া সরাসরি তাহার পশ্চাৎদেশের দিকে মনোযোগ দিলেন। তিনি ফারুকীর হাসপাতালের পোশাকখানা ঈষৎ সরাইয়া উনার নিতম্ব নিরীক্ষণ করিতে শুরু করিলেন।
বিস্মিত ও ব্যথাক্লিষ্ট ফারুকী ক্ষীণ কণ্ঠে বলিয়া উঠিলেন, “বড় ডাক্তার টেস্ট করে বললো অ্যাপেনডিক্সের সমস্যা! কিন্তু আসিফ ভাই, আপনি আমার হো*গা হাতচ্ছেন কেন?”
উত্তরে আসিফ নজরুল এক ঐতিহাসিক উক্তি করিলেন, যাহা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকিবে। তিনি বলিলেন, “হায় আল্লাহ, ফারুকী তুমি কি জানো না, ডাক্তারেরা টাকা খেয়ে টেস্ট করায়? উহারা তোমার অ্যাপেনডিক্স কাটিয়া টাকা লইবে, কিন্তু তোমার আসল রোগ পশ্চাৎদেশেই থাকিয়া যাইবে। আমি সেই ষড়যন্ত্র ফাঁস করিতে আসিয়াছি।”
এই বলিয়াই তিনি তাহার বিশাল সিরিঞ্জখানা উঁচাইয়া ধরিয়া বলিলেন, “এইবার আমি আমার নিজস্ব পদ্ধতিতে সন্দেহ নিরসনমূলক নিরীক্ষা করিব।”
ফারুকীর আর্তচিৎকার এবং তিশার “বাঁচাও! বাঁচাও!” চিৎকারে হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা ছুটিয়া আসিলেন। তাহারা দেখিলেন, আইন উপদেষ্টা তাহার বিকল্প বোর্ড লইয়া ফারুকীর পশ্চাৎদেশে এক গভীর গবেষণায় মগ্ন। প্রধান সার্জন আগাইয়া আসিয়া বলিলেন, “উপদেষ্টা মহোদয়, আপনি কী করিতেছেন? উনার অ্যাপেনডিক্সের অপারেশন এখনই করিতে হইবে, নইলে উহা ফাটিয়া যাইবে!”
আসিফ নজরুল তাহার দিকে ফিরিয়া তাচ্ছিল্যের হাসি হাসিয়া বলিলেন, “চুপ দালাল! আপনারা রোগীর কথা মন দিয়া শোনেন না। কথা শেষ হইবার আগেই প্রেসক্রিপশন লেখেন। আমি রোগীর মুখ দেখিয়াই রোগ নির্ণয় করিতে পারি। উনার মুখমণ্ডলের অভিব্যক্তি পেটের ব্যথার নহে, পশ্চাৎদেশের নিদারুণ যন্ত্রণার ইঙ্গিত বহন করিতেছে। আপনারা উনার পশ্চাৎদেশের একটি এমআরআই কেন করাইলেন না?”
সার্জন মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িলেন। তিনি বলিলেন, “অ্যাপেনডিক্সের জন্য পশ্চাৎদেশের এমআরআই? হে প্রভু, তুমি আমায় উঠাইয়া লও।”
ইতিমধ্যে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা আসিয়া আইন উপদেষ্টা ও তাহার বিকল্প বোর্ডকে অতি সসম্মানে হাসপাতালের বাহিরে লইয়া গেলেন। যাইবার সময় আসিফ নজরুল চিৎকার করিয়া বলিয়া গেলেন, “এই ষড়যন্ত্রের শেষ আমি দেখিবই! আমি একটি নাগরিক তদন্ত কমিটি গঠন করিব। ফারুকীর পশ্চাৎদেশের সুবিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি ঘরে ফিরিব না!”
সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়াছে, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর অ্যাপেন্ডিক্সের অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হইয়াছে এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হইয়া উঠিতেছেন। অন্যদিকে, আইন উপদেষ্টা ডক্টর আসিফ নজরুল শাহবাগে একটি নাগরিক সমাবেশের ডাক দিয়াছেন, যাহার মূল দাবি “ফারুকীর পশ্চাৎদেশের অবিলম্বে এমআরআই করিতে হইবে, করিতে হইবে।”