মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর অ্যাপেন্ডিক্স বনাম আইন উপদেষ্টার পশ্চাৎদেশীয় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব: সিরিঞ্জ হাতে আসিফ নজরুলের হাসপাতাল অভিযান।
নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক কার্টুনুস: রাজধানীর নামকরা হাসপাতালের সাততলার কেবিন নম্বর ৫০১-এ তখন তুলকালাম কাণ্ড চলিতেছে। ‘বাঁচাও! বাঁচাও!’ বলিয়া চিৎকার করিতেছেন রিলের বঙ্গমাতা নুসরাত ইমরোজ তিশা। বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় ব্যথায় কাতরাইতেছেন তাহার পতিদেব, সংস্কৃতি উপদেষ্টা আল্লামা বউ ব্যবসায়ী হুজুরে কেবলা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আর তাহাদের সামনে আইনের বই বগলে চাপিয়া বিশাল এক সিরিঞ্জ হাতে দাঁড়াইয়া আছেন এক আগন্তুক। তাহার ভাবভঙ্গি বলিয়া দিতেছে, তিনি সাধারণ কেহ নহেন। কিন্তু ডাক্তার বা নার্সও যে নহেন, তাহা তাহার কর্মকাণ্ডেই স্পষ্ট। তিনি ফারুকীর পেটের দিকে না তাকাইয়া তাহার পশ্চাৎদেশের দিকে গভীর মনোযোগ দিয়াছেন। কে এই ব্যক্তি?
ঘটনা বুঝিতে হইলে আমাদের কয়েক ঘণ্টা পেছনে ফিরিতে হইবে। সংস্কৃতি উপদেষ্টা জনাব ফারুকী কক্সবাজারের এক কর্মশালা হইতে সরাসরি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করিয়া এই হাসপাতালে ভর্তি হন। দেশের সেরা ডাক্তারদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড জানায়, তাহার অ্যাপেন্ডিক্স অবিলম্বে অপসারণ করিতে হইবে। যেই-ই না এই খবর প্রচারিত হইয়াছে, অমনি পারমাণবিক বোমার ন্যায় ফাটিয়া পড়েন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা, আইনশাস্ত্রের সক্রেটিস কিন্তু চিকিৎসাশাস্ত্রের ক্ষেত্রে স্বঘোষিত জন সিনা, ডক্টর আসিফ নজরুল।
তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন, “অ্যাপেন্ডিক্স একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র! ইহা টেস্ট ব্যবসায়ীদের একটি ভাঁওতাবাজি। ফারুকী সাহেবের মতো একজন জ্ঞানী মানুষ কক্সবাজার গিয়া সামান্য অ্যাপেন্ডিক্সে আক্রান্ত হইবেন, ইহা আমি বিশ্বাস করি না।” তিনি তাহার নিজস্ব তত্ত্ব উপস্থাপন করিয়া বলেন, “আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলিয়া দিতেছে, ফারুকী সাহেব সৈকতের বালিতে বেগুন সদৃশ কোন কিছুর উপর ভুল করিয়া বসিয়া পরিয়াছিলেন। তাহার আসল আঘাত পেটে নহে, আরও দক্ষিণে! ডাক্তাররা টাকার লোভে সেই সত্য গোপন করিতেছে।”
এই বলিয়াই তিনি নিজেই সেই ‘দক্ষিণী ষড়যন্ত্র’ উন্মোচনের প্রতিজ্ঞা করেন এবং তাহার সেই প্রতিজ্ঞারই লাইভ অ্যাকশন চলিতেছিল হাসপাতালের ৫০১ নম্বর কেবিনে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আইন উপদেষ্টা মহোদয় তাহার বিশাল সিরিঞ্জটিকে একটি নিরীক্ষা যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিতেছিলেন। তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের সনাতনী পরীক্ষাপদ্ধতিকে পাশ কাটাইয়া সরাসরি ‘ফিল্ড লেভেল ইনভেস্টিগেশন’-এ অবতীর্ণ হন। এসময় রিলের বঙ্গমাতা নুসরাত ইমরোজ তিশা আগলাইয়া দাঁড়াইয়া স্বামীর সম্ভ্রম রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালান, কিন্তু আইন উপদেষ্টার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মুখের সামনে তাহার সকল প্রতিরোধ বর্থ্য হইতে চলিয়াছিল। রোগী, অর্থাৎ জনাব ফারুকী, ক্ষীণ কণ্ঠে কিছু একটা বলিবার চেষ্টা করিলেও ব্যথার কারণে তাহার বক্তব্য অস্পষ্টই থাকিয়া যায়।
ঘটনাস্থলে উত্তেজনার পারদ যখন চরমে, ঠিক তখনই কেবিনের দরজা সশব্দে খুলিয়া প্রবেশ করেন হাসপাতালের প্রধান সার্জন ও তাহার দল। কেবিনের ভেতরের নাটকীয় পরিস্থিতি দেখিয়া তিনি হতভম্ব হইয়া যান। আমাদের প্রতিবেদক জানান, সার্জন সাহেব আইন উপদেষ্টাকে রোগীর জরুরি অপারেশনের কথা স্মরণ করাইয়া দিলে উপদেষ্টা মহোদয় তাহার ‘দক্ষিণী ষড়যন্ত্র’ তত্ত্বটি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন এবং অবিলম্বে পশ্চাৎদেশের এমআরআই করানোর দাবি জানান। এই তত্ত্ব ও পাল্টা তত্ত্বে কেবিনের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হইয়া ওঠে।
অবশেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উপদেষ্টা মহোদয়কে তাহার বিকল্প চিকিৎসা বোর্ডসহ সসম্মানে কক্ষ ত্যাগ করিতে অনুরোধ করা হয়। হাসপাতাল করিডোরে দাঁড়াইয়া তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, এই ষড়যন্ত্র তিনি কোনোভাবেই সফল হইতে দিবেন না। তিনি অবিলম্বে ‘পশ্চাৎদেশের সুরক্ষায় নাগরিক অধিকার’ নিশ্চিত করার দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করিবেন বলিয়া ঘোষণা দেন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জনাব ফারুকীকে সফল অপারেশনের জন্য অপারেশন থিয়েটারে লইয়া যাওয়া হইয়াছে।