সাদাপাথর, ভোলাগঞ্জ (সিলেট) থেকে বিশেষ প্রতিনিধি: গ্রামীণ ব্যাংকের বিশ্ববিখ্যাত কিস্তিবাজ, গণতন্ত্রের স্নাইপার ও সংস্কারের কসমেটিক সার্জন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মুহম্মদ ইউনূস সম্প্রতি সিলেট সফরে গিয়ে এক ঐতিহাসিক সত্যের মুখোমুখি হয়েছেন। ধলাই নদীর পাড়ে, যেখানে একসময় সাদাপাথরের মনমাতানো বিছানা ছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি যা উপলব্ধি করেছেন, তা শুনে জাতির বিবেক থরথর করে কেঁপে উঠেছে।
গত মঙ্গলবার পড়ন্ত বিকেলে, প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর পরিদর্শনে যান। কিন্তু হায়! কোথায় সেই সাদাপাথর? চারিদিকে কেবল কাদা, ঘোলা পানি আর বিশাল বিশাল গর্তের হাহাকার। দেখে মনে হচ্ছে, কোনো ক্ষুধার্ত দৈত্য যেন এখানকার সব পাথর চেটেপুটে খেয়ে ফেলেছে। এই ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে সদা হাস্যোজ্জ্বল দন্ত বিকশিত মহাপুরুষ ডক্টর ইউনূসের মুখখানা প্রথমবারের মতো অমাবস্যার চাঁদের মতো ফ্যাকাসে হয়ে গেল। বিষণ্ণ বদনে তিনি পকেট থেকে তাঁর আইফোন সিক্সটিন প্রো ম্যাক্স বের করে পুরনো ছবির গ্যালারিতে প্রবেশ করলেন। স্ক্রল করতে করতে তিনি একটি ছবি বের করলেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি ধবধবে সাদা পাথরের উপর বসে আছেন, তাঁর পেছনে মেঘালয়ের সবুজ পাহাড় আর ধলাইয়ের স্বচ্ছ নীল জল। ছবিটি দেখিয়ে পাশে দাঁড়ানো পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা এবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের একমাত্র জীবিত শহীদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “রিজওয়ানা, দেখ দেখ! ভাগ্যিস গত বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একবার এসেছিলাম, তাই এই ছবিটা তুলে রাখতে পেরেছি। নইলে তো বিশ্ববাসী জানতেই পারত না এখানে একসময় পাথর ছিল!”
এই কথা শুনে পরিবেশ উপদেষ্টার মুখখানা আরও করুণ হয়ে গেল। গোল্ডম্যান পরিবেশ পুরস্কার জয়ী গোল্ডফিশ স্মৃতিধারী এই মহীয়সী নারী, যিনি কিনা উপদেষ্টা হয়েও অসহায়ত্বের জাতীয় বিজ্ঞাপনে পরিণত হয়েছেন, তিনি আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে বলেন, “স্যার, কী বলব দুঃখের কথা! আগের চার বছর আমি উপদেষ্টা না হয়েও জাফলংয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ রেখেছিলাম। আর এখন আমি নিজে উপদেষ্টা হয়ে পাথর রক্ষা করতে পারলাম না। আমার গাড়ি ঘিরে পাথরখেকোরা অশ্লীল বিক্ষোভ করে, আর আমি অসহায় তাকিয়ে থাকি। এ কেমন বিপ্লব স্যার, যেখানে পাথর পর্যন্ত সুরক্ষিত নয়?”
পরিবেশ উপদেষ্টার এমন মর্মস্পর্শী কথায় প্রধান উপদেষ্টার হৃদয়ে ক্ষুদ্রঋণের মতো ক্ষুদ্র একটি মায়ার উদ্রেক হলো। তিনি রিজওয়ানার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “আহা, মন খারাপ করো না। এটাকে লুটপাট বললে ভুল হবে। এটা হলো ‘সম্পদের স্বতঃস্ফূর্ত পুনর্বণ্টন’। দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, যারা এতদিন নির্যাতিত ছিল, তারা এখন প্রকৃতির এই সম্পদ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। এটাকে বলে ‘পাথরের গণতন্ত্রায়ন’। ফ্যাসিস্ট সরকার ১৬ বছর ধরে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে এই পাথরগুলোকে আটকে রেখেছিল, জনগণের কাছে পৌঁছাতে দেয়নি। এখন গণতন্ত্র আসায় পাথরগুলো মুক্তি পেয়েছে। তারা স্বেচ্ছায় জনগণের বাড়িতে, ক্রাশার মিলে চলে যাচ্ছে। এটাই তো প্রকৃত পরিবর্তন!”
ড. ইউনূসের এমন গভীর তত্ত্বকথা শুনে উপস্থিত সাংবাদিক ও আমলারা একে অপরের দিকে চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলেন। ক্ষুদ্রঋণের জনক ও বৃহৎ লুটের সমর্থক ইউনূস আরও যোগ করেন, “তোমরা বুঝবে না। দারিদ্র্যই সবচেয়ে বড় দূষণ। এই মানুষগুলো পাথর তুলে নিজেদের দারিদ্র্য দূর করছে, এর চেয়ে বড় পরিবেশ রক্ষা আর কী হতে পারে? আমি ভাবছি, এখানে ‘গ্রামীণ পাথর’ নামে একটি প্রকল্প চালু করব। লুটেরাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে, যাতে তারা আরও উন্নত মানের ক্রাশার মেশিন ও ট্রাক কিনতে পারে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, জিডিপি রকেটের গতিতে ছুটবে।”
এ সময় বেলার নির্বাহী পরিচালক ও পাথর লুটের নীরব পর্যবেক্ষক রিজওয়ানা হাসান ক্ষীণ কণ্ঠে প্রতিবাদের সুরে বলেন, “কিন্তু স্যার, এটা তো প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। এখানে পাথর উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা ১২টা মামলাও করেছি…”
তাঁকে থামিয়ে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আরে রাখো তোমার আইন! আইন মানুষের জন্য, মানুষ আইনের জন্য নয়। আর মামলার কী খবর? ১৯১ জন আসামির মধ্যে কয়জনকে ধরেছ?”
উপদেষ্টা বিমর্ষ মুখে উত্তর দেন, “মাত্র একজন, স্যার।”
“ব্যস! তাহলেই বোঝো,” মুচকি হেসে বলেন ডক্টর ইউনূস। “প্রশাসনও চায় জনগণের উন্নয়ন হোক। তারা এই স্বতঃস্ফূর্ত পুনর্বণ্টনে বাধা দিতে চায় না। আর শোনো, আমি খবর নিয়েছি, এই পাথর উত্তোলনের মহৎ কাজে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। এখানে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, হেফাজত, চরমোনাই সবার মধ্যে এক অভূতপূর্ব ঐক্য তৈরি হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে যা সম্ভব হয়নি, আমাদের গণতন্ত্রের সুবাতাসে তাই সম্ভব হয়েছে। একেই বলে ‘সর্বদলীয় পাথর-ঐক্য’। এমন ঐক্য আমি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সময়ও দেখিনি!”
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর সফর সংক্ষিপ্ত করে ফিরে যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠতে যাবেন, এমন সময় এক স্থানীয় বৃদ্ধ এগিয়ে এসে তাঁর পথ আগলে দাঁড়ান। বৃদ্ধ হাউমাউ করে কেঁদে বলেন, “স্যার, আমার সব শেষ! আমার বাড়ির পাশের ধানক্ষেত খুঁড়েও নাকি পাথর পাওয়া গেছে। গতকাল রাতে দেখি, আমার উঠানে রাখা কয়েকটা বড় পাথরও গায়েব। আমার বউ বলে, পাথরগুলোর নাকি পা গজিয়েছে, তারা গণতন্ত্রের মিছিলে যোগ দিতে চলে গেছে!”
বৃদ্ধের কথা শুনে জাফলংয়ের জন্য মায়াকান্না সমিতির সভানেত্রী রিজওয়ানা হাসান ফিসফিস করে ইউনূসকে বলেন, “স্যার, পরিস্থিতি ভয়াবহ। প্রশাসন ধানক্ষেত, পুকুর, এমনকি মানুষের বাড়ির ভেতর থেকেও নাকি লুট হওয়া পাথর উদ্ধার করছে। এখন কী হবে?”
ডক্টর ইউনূস বৃদ্ধের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, “চিন্তা করো না বাবা। তোমার উঠানের পাথর দেশের বৃহত্তর কল্যাণে আত্মত্যাগ করেছে। আর ধানক্ষেতে পাথর পাওয়া গেলে তো ভালো। তুমি এখন থেকে ধান চাষের বদলে পাথর চাষ করবে। ‘গ্রামীণ পাথর’ থেকে তোমাকে বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হবে। তোমার ভাগ্য বদলে যাবে।”
এই বলে তিনি গাড়িতে উঠে ঢাকার পথে রওনা দিলেন। যাওয়ার আগে তিনি বলে গেলেন, বিবর্ণ সাদাপাথর এলাকাটিকে তিনি একটি ‘পাথর লুট জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তুলবেন। সেখানে তাঁর সেই ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলে তোলা ছবিটি বড় করে বাঁধাই করে রাখা হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসে দেখতে পারে এবং শিখতে পারে যে, কীভাবে সাদাপাথরের মাধ্যম্যে দেশে গণতান্ত্রিক ঐক্য হয়েছিল। জাদুঘরের টিকেটের টাকা দিয়ে লুটেরাদের জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রও গড়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
#Cartunus Daily, #অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, #ইউনূস রেজিম, #ইউনূস সরকার, #ইউনূসের পিরামিড, #কার্টুনুস ডেইলি, #গণতন্ত্রের সুফল, #গণলুট, #গ্রামীণ ব্যাংক, #জাফলং, #ড. ইউনূস, #ড. মুহাম্মদ ইউনূস, #ডক্টর ইউনূস, #ডিজিটাল পাথর, #দৈনিক কার্টুনুস, #ধলাই নদী, #পরিবেশ বিপর্যয়, #পাথর উত্তোলন, #পাথর চুরি, #প্রধান উপদেষ্টা, #ফ্যাসিস্ট সরকার, #বাংলাদেশ, #ভোলাগঞ্জ, #ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর, #রাজনৈতিক রম্য, #রাজনৈতিক স্যাটায়ার, #রিজওয়ানা হাসান, #সর্বদলীয় ঐক্য, #সাদাপাথর, #সাদাপাথর লুট, #সিলেট পর্যটন, #সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, #স্যাটায়ার