সাদাপাথর, ভোলাগঞ্জ (সিলেট) থেকে বিশেষ প্রতিনিধি: সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, গণতন্ত্রের কসমেটিক সার্জন ও ক্ষুদ্রঋণের বিশ্ববিখ্যাত কিস্তিবাজ অধ্যাপক ডক্টর মুহম্মদ ইউনূস সিলেট সফরে গিয়ে এমন এক বৈপ্লবিক সত্য আবিষ্কার করেছেন, যা শুনে আইজ্যাক নিউটনের আপেল তত্ত্বও লজ্জায় লাল হয়ে যেত।
ঘটনার দিন ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর নামক পাথরশূন্য প্রান্তরে দাঁড়িয়ে উপদেষ্টা মহোদয় প্রথমে তাঁর ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলে তোলা ছবির সাথে বর্তমান ধ্বংসস্তূপ মিলিয়ে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকেন। তাঁর সফরসঙ্গী, বেলার নির্বাহী পরিচালক ও পাথর লুটের নীরব পর্যবেক্ষক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এই সুযোগে তাঁর পুরোনো কৌশল প্রয়োগ করেন। তিনি কাঁদো কাঁদো গলায় প্রশাসনের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে একটি লিখিত অভিযোগপত্র পাঠ করতে শুরু করেন, “স্যার, সব শেষ! প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, লুটেরা সবাই মিলে আমার পরিবেশটাকে ধর্ষণ করে ফেলল!”
কিন্তু এবার তাঁর ‘কান্না থেরাপি’ কাজে এলো না। গোল্ডফিশ স্মৃতিধারী পরিবেশ উপদেষ্টাকে থামিয়ে দিয়ে ডক্টর ইউনূস মুচকি হেসে বলেন, “রিজওয়ানা, তুমি ভুল ভাবছ। সাদাপাথরে কোন লুটপাট হয়নি। যা হয়েছে, তা হলো ‘পাথরের অভিপ্রায়ণ’ বা ‘স্টোন মাইগ্রেশন’।”
উপস্থিত সকলে ‘পাথরের অভিপ্রায়ণ’ শব্দটি শুনে হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন। ইউনূস ছাহেব তাঁর তত্ত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, “দেখো, মানুষ যেমন উন্নত জীবনের আশায় গ্রাম ছেড়ে শহরে আসে, ঠিক তেমনি এখানকার পাথরগুলোও উন্নত জীবনের সন্ধানে অভিপ্রায়ণ করেছে। বছরের পর বছর তারা এখানে অবহেলায় পড়েছিল। এখন তারা ক্রাশার মিলে গিয়ে উন্নত মানের চিপসে পরিণত হচ্ছে, দালানকোঠার অংশ হয়ে দেশের জিডিপিতে অবদান রাখছে। এটা তাদের জীবনের প্রোমোশন! আমরা কে তাদের এই উন্নত জীবনযাত্রায় বাধা দেওয়ার?”
তিনি আরও যোগ করেন, “যারা পাথর তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তারা লুটেরা নয়; তারা হলো ‘পাথর অভিবাসন কর্মকর্তা’ বা ‘স্টোন মাইগ্রেশন অফিসার’। তারা এই নিরীহ পাথরগুলোকে উন্নত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে দিচ্ছে।”
রিজওয়ানা হাসান ক্ষীণ কণ্ঠে বলেন, “কিন্তু স্যার, আইনে তো…”
আইন শব্দটি শুনেই ক্ষুদ্রঋণের জনক ও বৃহৎ লুটের সমর্থক ইউনূস ছাহেব প্রায় ধমক দিয়ে ওঠেন, “কোন আইন? যে আইন পাথরকে তার উন্নত জীবন বেছে নিতে বাধা দেয়, সে আইন আমরা মানব না। আমরা এখন এই পাথর অভিবাসন প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেব।”
এই বলেই তিনি তাঁর যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “খুব শীঘ্রই আমরা ‘গ্রামীণ পাথর ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করব। যারা পাথর অভিবাসনে সহায়তা করছে, তারা তাদের সংগৃহীত পাথর এই ব্যাংকে জমা রাখতে পারবে। প্রতি একশ কেজি পাথরের জন্য তাদের নামে একটি করে ‘পাথর সঞ্চয়ী হিসাব’ খোলা হবে। বছর শেষে তারা এর উপর সুদ হিসেবে আরও দশ কেজি পাথর পাবে।”
তিনি জানান, এই ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ‘পাথর উত্তোলন ঋণ’ ও ‘ক্রাশার মেশিন ঋণ’ দেওয়া হবে, যাতে আরও বেশি সংখ্যক ‘পাথর অভিবাসন কর্মকর্তা’ এই মহৎ কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারে।
এই প্রকল্পের কথা শুনে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। পরিবেশ রক্ষার চেয়ে ব্যাংকের এমডি হওয়ার সুযোগ হয়তো তাঁর কাছে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কান্না থামিয়ে বলেন, “স্যার, অসাধারণ আইডিয়া! আমি এখনই এই ব্যাংকের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব লোগো ডিজাইন করার কথা ভাবছি।”
পরিশেষে, ডক্টর ইউনূস ঘোষণা দেন যে, ভোলাগঞ্জের এই পাথরশূন্য এলাকাটিকে বিশ্বের প্রথম ‘পাথর অভিপ্রায়ণ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলে তোলা তাঁর ছবিটি সেখানে বিশাল আকারে টাঙিয়ে লেখা থাকবে: “একদা এখানে সাদা পাথর ছিল, তাহারা এখন উন্নত জীবনের সন্ধানে।”
#Cartunus Daily, #অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, #ইউনূস রেজিম, #ইউনূস সরকার, #ইউনূসের পিরামিড, #কার্টুনুস ডেইলি, #গণতন্ত্রের সুফল, #গণলুট, #গ্রামীণ ব্যাংক, #জাফলং, #ড. ইউনূস, #ড. মুহাম্মদ ইউনূস, #ডক্টর ইউনূস, #ডিজিটাল পাথর, #দৈনিক কার্টুনুস, #ধলাই নদী, #পরিবেশ বিপর্যয়, #পাথর উত্তোলন, #পাথর চুরি, #প্রধান উপদেষ্টা, #ফ্যাসিস্ট সরকার, #বাংলাদেশ, #ভোলাগঞ্জ, #ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর, #রাজনৈতিক রম্য, #রাজনৈতিক স্যাটায়ার, #রিজওয়ানা হাসান, #সর্বদলীয় ঐক্য, #সাদাপাথর, #সাদাপাথর লুট, #সিলেট পর্যটন, #সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, #স্যাটায়ার