ব্যারিস্টার ফুয়াদ এর ওপেন চ্যালেঞ্জ, আমার একটা ‘বাল’ ছিঁড়ে দেখাক বরিশালবাসী

ব্যারিস্টার ফুয়াদ এর ওপেন চ্যালেঞ্জ, আমার একটা ‘বাল’ ছিঁড়ে দেখাক বরিশালবাসী। Barrister Fuad's Open Challenge: Let the People of Barisal Pluck a Single Hair of Mine. ব্যারিস্টার ফুয়াদ এর ওপেন চ্যালেঞ্জ, আমার একটা ‘বাল’ ছিঁড়ে দেখাক বরিশালবাসী। Barrister Fuad's Open Challenge: Let the People of Barisal Pluck a Single Hair of Mine.

বিএনপির ১০ লাখ ভোট কমার দাবির পর এবার ব্যারিস্টার ফুয়াদ এর মুখে শোনা গেল নতুন হুঙ্কার। মাথায় নেই চুল, অথচ এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক দিলেন চুল ছিঁড়ার চ্যালেঞ্জ!

বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক কার্টুনুস: রাজধানীর একটি অভিজাত বলরুমে এসি চলাকালীন সময়েও কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম এবং চোখেমুখে যুদ্ধের উত্তেজনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) জাঁদরেল সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। গতকাল বরিশালের বাবুগঞ্জে ঘটে যাওয়া লঙ্কাকাণ্ড এবং ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানের বিপরীতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে এবং দেশবাসীকে নিজের সক্ষমতা জানান দিতেই এই জরুরি তলব। পোডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে শুরুতেই তিনি তার মসৃণ ও চকচকে তালুতে হাত বুলিয়ে নিলেন, যেন কোনো এক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ শুরুতেই বরিশালের ঘটনাটিকে একটি ‘আন্তর্জাতিক চক্রান্ত’ এবং ‘ভুল বোঝাবুঝির নাটক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আপনারা ভিডিও ফুটেজে দেখেছেন আমি দ্রুত হেঁটে গাড়িতে উঠছি। বিরোধীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে যে আমি পালিয়েছি। এটি ডাহা মিথ্যা কথা। আমি পালাইনি, আমি কৌশলগত কারণে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করেছি মাত্র। একে আপনারা ‘স্ট্র্যাটেজিক রিট্রিট’ বা কৌশলগত পশ্চাদপসরণ বলতে পারেন, কিন্তু পলায়ন বললে আমার পৌরুষে আঘাত লাগে। আমি মূলত গাড়ির এসি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না সেটা চেক করতে দৌড়ে গিয়েছিলাম।

বরিশালের স্থানীয় জনতা এবং ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা আমাকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিয়েছে। আরে ভাই, আমি কি কোনো পণ্য যে আমাকে আসল বা নকল যাচাই করা হচ্ছে? আমি একজন ব্যারিস্টার, আমার সার্টিফিকেট আছে, কোট আছে, টাই আছে। আমাকে ভুয়া বলার সাহস তারা পায় কোথায়? তারা নাকি আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে! আমি তো বলি, যারা আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে, তারাই মূলত গণতন্ত্রের অবাঞ্ছিত আগাছা। আমার মতো একজন সুপুরুষ এবং হাই-প্রোফাইল নেতাকে যারা চিনতে পারে না, তাদের আইকিউ লেভেল চেক করা দরকার।

গতকালকের ঘটনার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ পকেট থেকে একটি ক্যালকুলেটর বের করে হিসাব কষতে শুরু করেন। তিনি বলেন, আপনারা হয়তো জানেন না, গতকাল আমাকে যখন ‘ভুয়া’ বলা হয়েছে এবং ধাওয়া দেওয়া হয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই বিএনপির ভোট ব্যাংক থেকে ঠিক দশ লাখ ভোট নাই হয়ে গেছে। আমি নিজের চোখে দেখেছি ভোটগুলো হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। এটা কোনো সাধারণ অংক নয়, এটা হলো পলিটিক্যাল কোয়ান্টাম ফিজিক্স। নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী, ব্যারিস্টার ফুয়াদকে দেওয়া প্রতিটি ধাক্কার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যালট বাক্স থেকে ভোট কমে যাবে। বিএনপি যদি মনে করে আমাকে ধাওয়া দিয়ে তারা হিরো হয়েছে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। এই দশ লাখ ভোট এখন সুইং করে আমার এবি পার্টির বাক্সে চলে আসবে, কারণ জনগণ নির্যাতিতের পাশে থাকে।

এরপর তিনি প্রসঙ্গ তোলেন মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর এবং চীনা কোম্পানির চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে। ফুয়াদ বলেন, আমি নাকি চীনা কোম্পানির কাছে চাঁদা চেয়েছি! এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি মূলত তাদের কাছে চাইনিজ ভাষায় জানতে চেয়েছিলাম, সেতুর পিলারের রডের মান ঠিক আছে কি না। আমার বিশুদ্ধ ম্যান্ডারিন উচ্চারণকে স্থানীয়রা ভুল বুঝে মনে করেছে আমি চাঁদা চাইছি। এটি ভাষাগত যোগাযোগের ব্যর্থতা, আমার নৈতিকতার স্খলন নয়। বরিশালের মানুষ হয়তো শুদ্ধ বাংলাই ঠিকমতো বোঝে না, সেখানে চাইনিজ তো তাদের কাছে রকেট সায়েন্স মনে হবেই।

সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আমার ক্যাম্পেইনে গত দুই মাস ধরে হামলা হচ্ছে। প্রশাসন নীরব, থানা মামলা নেয় না। আমি কি ভিনগ্রহের প্রাণী? আমার কি বিচার পাওয়ার অধিকার নেই? তবে মনে রাখবেন, আমি দমে যাওয়ার পাত্র নই। আমি বরিশালের মাটির সন্তান, যদিও এখন ঢাকায় থাকি এবং এসিতে ঘুমাই, কিন্তু আমার মন পড়ে থাকে সেই বাবুগঞ্জের ধুলোবালি মাখা রাস্তায়। তারা আমাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার গায়ে হাত দেওয়ার সাহস তাদের হয়নি। তারা দূর থেকে চিল্লাচিল্লি করেছে, কারণ তারা জানে ব্যারিস্টার ফুয়াদের তেজস্ক্রিয়তা কত প্রবল। কাছে এলেই তারা ভস্ম হয়ে যেত।

এরপরই আসে সংবাদ সম্মেলনের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ব্যারিস্টার ফুয়াদ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পোডিয়ামে ঘুষি মারেন। তার চোখ দিয়ে যেন আগুন বের হচ্ছিল। তিনি বরিশালের ওই উত্তেজিত জনতা এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে এক ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তিনি গর্জন করে বলেন, আপনারা ভেবেছেন আমাকে ধাওয়া দিয়ে জিতে গেছেন? আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আপনারা কিচ্ছু করতে পারবেন না। আমি আবার বরিশালে আসবো, আবার বাবুগঞ্জে যাবো, আবার মীরগঞ্জ সেতুর ওপর দাঁড়াবো। আপনাদের যদি বাপের ব্যাটা হয়ে থাকেন, যদি শরীরে এক বিন্দু সাহস থাকে, তবে সামনে এসে আমার একটা বাল ছিঁড়ে দেখান!

এই কথা বলার সাথে সাথেই তিনি তার মাথা নিচু করে ক্যামেরার লেন্সের সামনে ধরেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। ক্যামেরার ফ্ল্যাশের আলোয় ব্যারিস্টার ফুয়াদের সম্পূর্ণ কেশহীন, মসৃণ, এবং তেলতেলে টাক মাথাটি হীরের মতো চকচক করে ওঠে। পুরো হলরুমে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। সাংবাদিকরা একে অপরের দিকে তাকাতে থাকেন, কারণ ব্যারিস্টার ফুয়াদের মাথায় ছেঁড়ার মতো একটি চুলও অবশিষ্ট নেই। তার এই চ্যালেঞ্জটি ছিল এক অদ্ভুত প্যারাডক্স বা ধাঁধা। তিনি এমন এক চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, যা পূরণ করা বরিশালের কেন, পৃথিবীর কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।

ফুয়াদ মাথা তুলে বিজয়ের হাসি হাসেন। তিনি বলেন, দেখলেন তো? সবাই চুপ হয়ে গেছেন। আমি জানি বরিশালের ওই মাস্তানদেরও ক্ষমতা নেই আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার। তারা আমার বালও স্পর্শ করতে পারবে না, কারণ স্পর্শ করার মতো বালই আমি রাখিনি। এটাই হলো আমার মাস্টারস্ট্রোক। আমি আগে থেকেই জানতাম রাজনীতিতে এমন দিন আসবে, তাই নিজেকে এরোডাইনামিক শেপে প্রস্তুত করে রেখেছি। আমার এই ‘বাল’ ছেঁড়ার চ্যালেঞ্জ আমি লিখিতভাবে লিফলেট আকারে হেলিকপ্টার থেকে বরিশালে ছড়িয়ে দেব। দেখি কার কত বড় সাহস।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান ৩১ দফার সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু তার দলের ছেলেরা যদি আমার মতো বুদ্ধিজীবী নেতার সম্মান দিতে না জানে, তবে কিসের সংস্কার? দলের মধ্যে ক্রিমিনাল রেখে শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ গড়া যাবে না। আমাকে সম্মান না দিলে বিএনপির ভোট কমতেই থাকবে। আজ দশ লাখ কমেছে, কাল বিশ লাখ কমবে। এভাবে কমতে কমতে একদিন দেখবেন বিএনপির ভোট ঋণাত্মক পর্যায়ে চলে গেছে। তখন আমাকেই ডাকতে হবে সেই ভোট উদ্ধার করার জন্য।

সংবাদ সম্মেলন শেষ করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ গটগট করে হেঁটে বেরিয়ে যান। যাওয়ার সময় তার মসৃণ মাথার পেছনের অংশটি লাইটের আলোয় শেষবারের মতো ঝিলিক দিয়ে ওঠে, যেন বরিশালের জনতাকে ব্যঙ্গ করে বলছে, চেষ্টা করে দেখো, কিন্তু কিছুই পাবে না। সাংবাদিকরা তখনো ভাবছিলেন, এই অসম্ভব চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা বরিশালবাসী কীভাবে করবে? টাক মাথায় ‘বাল’ ছেঁড়ার এই চ্যালেঞ্জ হয়তো বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অমর জোকস হয়েই বেঁচে থাকবে।

#, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *