হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস। The Greatest Bengali of a Thousand Years Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and the Birth History of Bangladesh. হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস। The Greatest Bengali of a Thousand Years Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and the Birth History of Bangladesh.

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক অবিচ্ছেদ্য সত্তা। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বেই এসেছে আমাদের স্বাধীনতা।

বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক কার্টুনুস: বলা হয়ে থাকে ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলে, কিন্তু মাঝে মাঝে এমন এক একজন মহামানবের জন্ম হয় যারা ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেন, রচনা করেন নতুন ইতিহাস। হাজার বছরের পরাধীনতার গ্লানি মুছে বাঙালি জাতির জন্য একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি নিজস্ব পতাকা এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দেওয়া সেই মহামানবের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান, একটি আন্দোলন এবং একটি মানচিত্রের স্বপ্নদ্রষ্টা। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্ম এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন একই সুতোয় গাঁথা; বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা যেমন অসম্ভব, তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসও তাকে ছাড়া অসম্পূর্ণ। তার ৫৫ বছরের জীবনে তিনি যে ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং সংগ্রামের নজির স্থাপন করেছেন, তার চূড়ান্ত ফসল হলো ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত বিজয়। বাঙালির মনে স্বাধীনতার বীজ বপন থেকে শুরু করে তাকে মহীরুহে রূপান্তর করার পুরো কৃতিত্বই এই অবিসংবাদিত নেতার।

বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে বহু নেতা এসেছেন, বহু আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো কেউ বাঙালিকে একটি জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখিয়ে তা বাস্তবে রূপ দিতে পারেননি। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান নামক যে অদ্ভুত রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছিল, তার অসারতা তরুণ শেখ মুজিব শুরুতেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ধর্মের ভিত্তিতে সৃষ্ট এই রাষ্ট্রে বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব বিপন্ন হতে বাধ্য। তাই পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই তিনি বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেমে পড়েন। ১৯৪৮ সালে যখন উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়, তখন থেকেই তিনি এর প্রতিবাদে সোচ্চার হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় রক্ষার প্রথম সোপান, আর এই আন্দোলনে শেখ মুজিবের ভূমিকা ছিল নেপথ্যের কারিগর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলখানায় অনশন করে তিনি ভাষা সংগ্রামীদের সাহস যুগিয়েছেন। ভাষার দাবি আদায়ের মাধ্যমেই তিনি বাঙালির মনে প্রথম বুঝিয়ে দেন যে, পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের আপন নয়, তাদের শোষণের হাত থেকে বাঁচতে হলে আমাদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে হবে। এই ভাষা আন্দোলনই ছিল স্বাধীনতার বীজের প্রথম অংকুরোদগম, যা বঙ্গবন্ধুই সযত্নে লালন করেছিলেন।

পরবর্তী দুই দশক ধরে তিনি ধাপে ধাপে বাঙালি জাতিকে প্রস্তুত করেছেন চূড়ান্ত মুক্তির জন্য। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সামনের সারির লড়াকু সৈনিক। তবে বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে খ্যাত ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি ছিল তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার চূড়ান্ত স্বাক্ষর। ছয় দফা ছিল কার্যত পাকিস্তানের কাঠামোর ভেতরে থেকেই বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি, যা প্রকারান্তরে স্বাধীনতারই পূর্বশর্ত ছিল। তিনি জানতেন, পাকিস্তানি শাসকরা এই দাবি মেনে নেবে না, আর তখনই বাঙালির সামনে স্বাধীনতার বিকল্প কোনো পথ খোলা থাকবে না। ছয় দফা দেওয়ার পর তাকে দেশদোহী হিসেবে চিত্রিত করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়। কিন্তু তিনি দমে যাননি। বরং এই মামলা তাকে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বা ‘বঙ্গবন্ধু’তে পরিণত করে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান তাকে জেল থেকে মুক্ত করে আনে এবং তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার একমাত্র প্রতীক। এই সময়গুলোতে তিনি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া চষে বেড়িয়েছেন, সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেছেন এবং তাদের বুঝিয়েছেন যে, শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে হলে নিজেদের হাতে ক্ষমতা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের এক বিশাল মাইলফলক। তিনি এই নির্বাচনকে ছয় দফার পক্ষে গণভোট হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। বাঙালি জাতি তার ডাকে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেয়। এই বিজয় ছিল বাঙালির ম্যান্ডেট, যা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছিল যে শেখ মুজিবই বাঙালির একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি। কিন্তু পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। এই প্রেক্ষাপটে আসে ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চ। মার্চের প্রতিটি দিন ছিল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা। বিশেষ করে ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তিনি যে ভাষণ দেন, তা কেবল একটি ভাষণ ছিল না, তা ছিল একটি নিরস্ত্র জাতির প্রতি সশস্ত্র যুদ্ধের আহ্বান এবং স্বাধীনতার অলিখিত ঘোষণা। মাত্র ১৮ মিনিটের এই ভাষণে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেন, শোষণের চিত্র তুলে ধরেন এবং নির্দেশ দেন— “যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।” তার বজ্রকন্ঠে উচ্চারিত “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” বাক্যটিই ছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালির জন্য স্বাধীনতার মন্ত্র। তিনি জানতেন তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে বা হত্যা করা হতে পারে, তাই তিনি সেই ভাষণে ভবিষ্যতের কর্মপন্থা ঠিক করে দিয়ে যান। এই ভাষণ শুনেই বাংলার কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে যায়। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ভাষণটিই প্রমাণ করে যে, তিনি ছিলেন যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, তার নির্দেশেই পরিচালিত হয়েছে পুরো মুক্তিযুদ্ধ।

২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা শুরু করে, তখনো বঙ্গবন্ধু বিচলিত হননি। গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণা চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হওয়ার পর সারা বাংলায় প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়। যদিও পুরো নয় মাস তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন, কিন্তু তার নামেই পরিচালিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। রণাঙ্গনের প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” “তোমার নেতা আমার নেতা, শেখ মুজিব শেখ মুজিব” স্লোগান দিয়ে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তাদের কাছে বঙ্গবন্ধু ছিলেন এক অশরীরী শক্তি, যার অনুপ্রেরণা তাদের মৃত্যুর মুখেও অবিচল রেখেছিল। এ সময় তার অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের হাল ধরেন জাতীয় চার নেতা, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান। তারা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথেই মুজিবনগর সরকার গঠন করেন এবং বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি যুদ্ধ পরিচালনা করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ছাত্রলীগের ছেলেরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই দৃঢ়তা এবং সমন্বয়ের মূলেই ছিলেন বঙ্গবন্ধু, কারণ তিনি বছরের পর বছর ধরে এই দল ও ছাত্র সংগঠনকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন এই দিনটির জন্যই।

স্বাধীনতা অর্জনের এই পথে বাঙালিকে দিতে হয়েছে এক বিশাল রক্তসাগর পাড়ি। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদররা চালিয়েছে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা। ৩০ লাখ মানুষ তাদের প্রাণ দিয়েছেন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম বড় গণহত্যা। রক্তে রঞ্জিত হয়েছে বাংলার সবুজ প্রান্তর। শুধু হত্যাই নয়, তারা সম্ভ্রম হরণ করেছে ২ লাখ মা-বোনের। এই মা-বোনদের আত্মত্যাগ এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার জন্যই মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। তারা জানতেন, তাদের নেতা শেখ মুজিব আপস করেননি, তাই তারাও আপস করতে পারেন না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছিল তাদের শক্তি। তিনি শিখিয়েছিলেন মাথা নত না করতে। তাই ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই বিজয় কেবল একটি ভূখণ্ডের বিজয় ছিল না, এটি ছিল বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্নের বিজয়।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন স্বদেশে ফিরে আসেন, তখনই পূর্ণতা পায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তিনি এসেই হাত দেন দেশ গড়ার কাজে। কিন্তু তার এই রাষ্ট্র গঠনের কাজ ছিল অত্যন্ত কঠিন। রাস্তাঘাট ভাঙা, কোষাগার শূন্য, প্রশাসন বিপর্যস্ত, এমন একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সংবিধান প্রণয়ন করেন, ভারতীয় সৈন্য ফেরত পাঠান এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করেন। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তুলতে, যেখানে কোনো শোষণ থাকবে না, মানুষ পেট ভরে খাবে, হাসবে, গাইবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকরা তাকে সপরিবারে হত্যা করে সেই উন্নয়নের চাকাকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। তারা ব্যক্তিকে হত্যা করতে পেরেছিল, কিন্তু তার আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি।

বঙ্গবন্ধুর জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি কখনোই ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি। তার রাজনীতি ছিল মানুষের কল্যাণের জন্য। তিনি মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছিলেন দলের কাজ করার জন্য। তার জীবনের বড় একটা অংশ কেটেছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। যৌবনের সোনালী দিনগুলো তিনি উৎসর্গ করেছিলেন এই দেশের মানুষের জন্য। তার এই ত্যাগের মহিমাই তাকে সাধারণ শেখ মুজিব থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ এবং পরে ‘জাতির পিতা’র আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। তিনি না থাকলে আমরা আজো হয়তো পাকিস্তানের উপনিবেশ হয়ে থাকতাম, আমাদের ভাষা হতো উর্দু, আর আমাদের সংস্কৃতি হতো ভুলুণ্ঠিত। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ছাড়া ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হতে পারত না, আর ঐক্যবদ্ধ না হলে প্রশিক্ষিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করা ছিল অসম্ভব।

আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আমরা যা কিছু অর্জন করেছি,  সবকিছুর মূলে রয়েছেন তিনি। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে হয়। তার ৭ই মার্চের ভাষণ আজো আমাদের ধমনীতে শিহরণ জাগায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবংকোটি জনতার যে সংগঠন তিনি গড়ে তুলেছিলেন, তা ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি। জাতীয় চার নেতার বিশ্বস্ততা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতা ছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া এই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করতে হবে।

পরিশেষে নিঃসন্দেহে বলা যায়, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একই সত্তার দুটি নাম। তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা যায় না। তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে, ধমনীতে এবং নিঃশ্বাসে। যতদিন পদ্মা, মেঘনা, গৌরী, যমুনা বহমান থাকবে, ততদিন এই বদ্বীপের মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অবিনশ্বর বাতিঘর হয়ে জ্বলবেন। তার জন্ম না হলে বাংলাদেশ নামক এই স্বাধীন রাষ্ট্রটি হয়তো কখনোই আলোর মুখ দেখত না। তিনি আমাদের দিয়েছেন একটি দেশ, একটি পতাকা এবং একটি জাতিসত্তা। তার ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না, শুধু তার দেখানো পথে হেঁটে সোনার বাংলা গড়ার মাধ্যমেই তার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।

#, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *