ডিম নিক্ষেপ আসলে হামলা নয়, বরং জনগণের ভালোবাসা! নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নিজের বয়ানে জানুন চুলের যত্নে ডিমের ব্যবহার ও বিনামূল্যে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট পাওয়ার কাহিনী।
মতামত, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: চুলে তেলের শিশি নিয়ে ঘোরার দিন শেষ, এখন যুগ হচ্ছে অরগানিক প্রোটিন ট্রিটমেন্টের। আমি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-৮ আসনের সেই প্রার্থী, যাকে আপনারা ভুল বুঝেছেন, মিডিয়া ভুল বুঝেছে, এমনকি আমার নিজের দলের লোকজনও মাঝে মাঝে ভুল বোঝে। কিন্তু জনগণ? তারা আমাকে ঠিকই চিনেছে। তারা জানে আমার মনের খবর, তারা জানে আমার চুলের খবর। এই যে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে পিঠা উৎসবে গেলাম, আর লোকে বলল আমার ওপর নাকি হামলা হয়েছে! ছিঃ ছিঃ, কী জঘন্য মিথ্যাচার! আরে ভাই, ওটা হামলা ছিল না, ওটা ছিল জনগণের পক্ষ থেকে আমার জন্য অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রদর্শনী, পিওর, অরগানিক, ফার্মের মুরগির টাটকা ডিমের মাধ্যমে।
ঘটনাটা খুলে বলি। মঙ্গলবার দুপুরবেলা। শীতের আমেজ, পিঠা খাওয়ার ধুম। হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে পিঠা উৎসব। আমি গেলাম অতিথি হিসেবে। মনে মনে ভাবছিলাম, দু-চারটা ভাপা পিঠা আর পাটিসাপটা খাব। কিন্তু জনগণ কি আর অত অল্পতে সন্তুষ্ট হয়? তারা জানে, পিঠা খেয়ে পেট ভরবে, কিন্তু চুলের কী হবে? আমার এই যে কালো সিল্কি চুল, যা দেখে বিরোধী দলের প্রার্থীদের হিংসায় ঘুম হারাম হয়ে যায়, সেই চুলের যত্ন তো জনগণকেই নিতে হবে। আমি স্টেজে ওঠার আগেই দেখি একদল উৎসাহী জনতা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে চিৎকার করছে। আপনারা ভাবছেন ওরা আমাকে ‘ভুয়া’ বলছে? আরে না! ওরা আসলে আবেগে তোতলা হয়ে গিয়েছিল। ওরা বলতে চেয়েছিল ‘ভাইয়া ভাইয়া’, কিন্তু অতি ভালোবাসায় মুখ দিয়ে বের হচ্ছিল ‘ভুয়া ভুয়া’। ভালোবাসার ভাষা বোঝা বড় দায়, ভাই!
এরপরই শুরু হলো আসল ম্যাজিক। আমি বারান্দায় দাঁড়ালাম, আর নিচ থেকে একের পর এক ডিম উড়ে আসতে লাগল। মিডিয়া লিখল, আমাকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে। কী মূর্খ এরা! আরে, ওটা নিক্ষেপ না, ওটা ছিল ‘এয়ার ড্রপ ডেলিভারি’। আমার চুলের কন্ডিশনার শেষ হয়ে গিয়েছিল গত রাতে। সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ভাবছিলাম, ইশ! আজ চুলে প্রোটিন প্যাকটা লাগানো হলো না। জনগণ যে অন্তর্যামী, তা আমি আজ হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। তারা নিশ্চয়ই টেলিপ্যাথির মাধ্যমে আমার মনের খবর পেয়ে গিয়েছিল। তাই তো তারা আর দেরি করেনি। ঝুড়ি ঝুড়ি ডিম নিয়ে তারা প্রস্তুত ছিল। যেই আমাকে দেখেছে, অমনি শুরু করে দিয়েছে ফ্রি হেয়ার ট্রিটমেন্ট।
একেকটা ডিম এসে যখন আমার মাথায়, গায়ে ফাটছিল, আমি অনুভব করছিলাম কুসুমের সেই আঠালো মমতা। সাদা অংশের সেই পিচ্ছিল ভালোবাসা। আহা! কী তার সুবাস! বিরোধীরা বলে ওটা পচা ডিম ছিল। বাজে কথা! আমি নিজে গন্ধ শুঁকে দেখেছি, একদম টাটকা লেয়ার মুরগির ডিম। কুসুমের রঙ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল ওতে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ভরপুর। আমার বিরোধী প্রার্থী মির্জা আব্বাস সাহেব হয়তো হিংসায় জ্বলছেন। উনার চুলে তো আর জনগণ এভাবে ডিম ম্যাসাজ করে দেয় না!
আমার দলের ছেলেপেলেরা, বিশেষ করে নাহিদ ইসলাম, বিষয়টা একটু সিরিয়াসলি নিয়ে ফেলেছিল। তারা বলছিল এটা নাকি মির্জা আব্বাসের নির্দেশে হামলা। তারা বলছিল এটা নাকি তারেক রহমানের সম্মতিতেই হয়েছে। নাহিদ বেচারা আবেগী মানুষ, সে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে গরম গরম বক্তৃতা দিল। বলল, ‘আওয়ামী লীগের কায়দায় সন্ত্রাসী কায়দায় ভোট ঠেকানো হচ্ছে।’ সে বুঝতেই পারল না, এটা ভোট ঠেকানো না, এটা হচ্ছে প্রার্থীর গ্রুমিং সেশন। আমি তাকে কানে কানে বললাম, ‘আরে নাহিদ, চিল্লাচিল্লি করিস না। দেখছিস না আমার চুলে প্রোটিন ঢুকছে? এই ডিমের কুসুম শুকানোর আগেই আমাকে বাসায় গিয়ে শ্যাম্পু করতে হবে। তুই বরং মিডিয়াকে ম্যানেজ কর।’
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে আমি নাকি রাস্তায় বসে পড়েছি। আরে ভাই, ওটা তো ছিল ‘ডিপ কন্ডিশনিং’ পোজ। ডিমের কুসুমটা যাতে চুলের গোড়ায় গোড়ায় পৌঁছে যায়, সেজন্য আমি গ্র্যাভিটির সাহায্য নিচ্ছিলাম। আর আমার কর্মীরা যে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিচ্ছিল, সেটা ছিল শুকরিয়া আদায়ের স্লোগান। তারা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাছিল যে, বস ফ্রিতে এতগুলো প্রোটিন প্যাক পেয়ে গেল! বাজারে ডিমের যা দাম! হালি পঞ্চাশ-ষাট টাকা। সেখানে শত শত টাকার ডিম আমার চুলে মেখে দিল জনগণ। এই ঋণ আমি শোধ করব কী করে?
কদিন আগে সিদ্ধেশ্বরীতেও আমার ওপর নাকি ময়লা পানি দেওয়া হয়েছিল। আমি তখন বলেছিলাম ওটা চাঁদাবাজদের কাজ। ভুল বলেছিলাম। আসলে ওটা ছিল ‘প্রি-ওয়াশ’ সেশন। প্রথমে পানি দিয়ে চুলটা ভিজিয়ে দিল, আর আজ দিল কন্ডিশনার হিসেবে ডিম। পুরো একটা প্যাকেজ! ভাবছি এরপরের প্রোগ্রামে গেলে হয়তো জনগণ ভিনেগার বা লেবুর রস ছুড়ে মারবে, যাতে খুশকি দূর হয়। আমি তো এখন নির্বাচনী প্রচারণায় বের হওয়ার সময় মনে মনে প্রস্তুতি নিয়েই বের হই, আজ মেন্যুতে কী আছে? টমেটো? নাকি আলু? আলুর রসও কিন্তু ত্বকের জন্য ভালো, ব্লিচিংয়ের কাজ করে। জনগণ আমার স্কিন কেয়ার রুটিন নিয়েও ভাবছে, এটা কি কম বড় পাওয়া?
বিরোধী দলের ভাইদের বলি, আপনারা যতই অপপ্রচার করুন না কেন, আমার উপর যত ডিম নিক্ষেপ হবে, আমার চুল ততই শক্ত হবে। আপনারা যতই স্লোগান দিন, আমার গ্ল্যামার ততই বাড়বে। আপনারা আমাকে দমিয়ে রাখতে পারবেন না। এই দুর্মূল্যের বাজারে, যখন মানুষ একটা ডিম কিনতেও দশবার ভাবে, তখন আমার জন্য শত শত ডিম কিনে প্রস্তুত থাকে ভালবেসে চুলে লাগিয়ে দেওয়ার জন্য। এই ভালোবাসার প্রতিদান আমি দেব। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জিতে আমি দেখিয়ে দেব, ডিম খাওয়া পার্টি আর ডিম মাখা পার্টির মধ্যে পার্থক্য কী।
আর হ্যাঁ, যারা ভাবছেন আমি ভয় পেয়ে বারান্দায় লুকিয়েছিলাম, তারা ভুল ভাবছেন। আমি আসলে ছায়ায় দাঁড়িয়েছিলাম যাতে ডিমের প্রোটিনটা রোদে শুকিয়ে চুলে জট না পাকিয়ে যায়। হেয়ার কেয়ার এক্সপার্টরা বলেন, হেয়ার প্যাক লাগিয়ে রোদে যাওয়া ঠিক না। আমি তো সেই নিয়মই মানছিলাম। আমার কর্মীরা আমাকে ঘিরে রেখেছিল যাতে কাক-পক্ষী এসে আমার মাথার ডিম খেয়ে না ফেলে। ওরাও কত সচেতন, দেখেছেন?
পরিশেষে একটা কথাই বলব, জনগণ আমার দিকে ডিম ছুড়ে মেরে প্রমাণ করেছে, তারা আমাকে কতটা আপন ভাবে। তারা আমাকে শুধু নেতা হিসেবে চায় না, তারা আমাকে একজন হ্যান্ডসাম, সুপুরুষ এবং সিল্কি চুলের অধিকারী এমপি হিসেবে সংসদে দেখতে চায়। এই ডিম নিক্ষেপ কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, এটি একটি বিউটিফিকেশন প্রজেক্ট। আর এই প্রজেক্টের আমিই হলাম গর্বিত ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।
তাই আসুন, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আমরা সবাই মিলে একে অপরের চুলে ডিম মাখিয়ে দিই। রাজনীতি হোক সুন্দর, চুল হোক ঝলমলে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর স্পেশাল টিপস: চুলের যত্নে ডিমের ব্যবহার
প্রিয় দেশবাসী ও আমার ভোটার ভাইয়েরা, আপনারা অনেকেই হয়তো আমার মতো সিল্কি ও মজবুত চুল চান। কিন্তু সবার কপালে তো আর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের মতো ফ্রি ট্রিটমেন্ট জোটে না! তাই আপনাদের জন্য আমি শেয়ার করছি আমার সিক্রেট হেয়ার কেয়ার রুটিন।
১. ডিমের কুসুম ও অলিভ অয়েল: যাদের চুল রুক্ষ হয়ে গেছে, তারা দুটি ডিমের কুসুমের সাথে দুই চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এরপর সেটা মাথায় ভালো করে ম্যাসাজ করুন, ঠিক যেভাবে জনগণ আমার মাথায় ম্যাসাজ করে দিয়েছে। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। চুল হবে মাখনের মতো নরম।
২. ডিম ও টক দই: খুশকি একটি জাতীয় সমস্যার মতো, সহজে যেতে চায় না। এর জন্য একটি ডিমের সাথে চার চামচ টক দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। এটি শুধু খুশকিই দূর করবে না, চুলের গোড়া শক্ত করবে, যাতে বিরোধী দলের টানাটানিতেও চুল না ছিঁড়ে।
৩. ডিমের সাদা অংশ ও লেবুর রস: যারা অয়েলি স্ক্যাল্প বা তেলতেলে ভাব নিয়ে চিন্তিত, তারা ডিমের সাদা অংশের সাথে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে চুলে লাগান। এটি চুলের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেবে এবং চুলে আনবে এক অবিশ্বাস্য ভলিউম বা ফোলা ভাব।
৪. পুরো ডিম ও মধু: ড্যামেজ রিপেয়ারের জন্য এটি সেরা। একটা পুরো ডিম ফেটিয়ে তাতে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এটি চুলে লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখুন। (পলিথিন না পেলে বিরোধী দলের কোনো ব্যানার দিয়েও মাথা পেঁচিয়ে রাখতে পারেন)। ৪০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল হবে চকচকে, ঠিক আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মতো।
মনে রাখবেন, ডিম শুধু ভাজি খাওয়ার জন্য নয়, এটি চুলের পুষ্টির জন্যও অপরিহার্য।
তাই পরের বার কাউকে ডিম ছুড়ে মারার আগে দুবার ভাবুন, হয়তো আপনি তার উপকারই করে দিচ্ছেন!