বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডকে টেক্কা দিতে এল জামায়াত আমিরের বেশ্যা কার্ড। আগামী নির্বাচনে গেম চেঞ্জার হবে কোনটি?
বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক কার্টুনুস: লন্ডন থেকে পাঠানো ফাইভ-জি স্পিডের ভার্চুয়াল তরঙ্গে যখন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর ঘোষণা দিলেন তখন থেকেই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়, যদিও বিরোধীরা দাবী করছে এই ফ্যামিলি কার্ড নতুন কিছু না, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৃহত পরিসরে করা “স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডেরই” একটি ক্ষুদ্র কপি-পেস্ট ভার্সন মাত্র। তবে ভোট বর্জন করা আওয়ামীলীগ যেহেতু মাঠে নাই, তাই তারেক রহমানের এই কপি-পেস্ট ফ্যামিলি কার্ডকে টেক্কা দিতে রাজনীতির দাবার বোর্ডে এক মোক্ষম চাল চাললেন জামায়াতে ইসলামীর আমিরে আজম। বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের বেলুন ফুটো করতে তিনি পকেট থেকে বের করলেন এক আনকোরা কার্ড, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বেশ্যা কার্ড’। আমিরে আজমের এই মাস্টারস্ট্রোক দেখে মওদুদী ধর্মের অনুসারীরা খুশিতে বাকবাকুম করছেন। তাদের দাবি, এই কার্ড শুধুই একটি কার্ড নয়, এটি ইহকাল ও পরকালের এক অটুট সেতুবন্ধন।
বিশ্বস্ত ও অতি-গোপন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কার্ডের আইডিয়াটি আমিরে আজমের মাথায় আসে এক গভীর রজনীতে, যখন তিনি চিন্তা করছিলেন কীভাবে ফ্যামিলি কার্ডের একঘেয়েমি কাটিয়ে জঙ্গি ভোটারদের মন জয় করা যায়। তিনি ভাবলেন, ফ্যামিলি তো সবারই থাকে, কিন্তু ‘বেশ্যা’ হওয়ার সৌভাগ্য কজনের হয়? তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, এমন এক কার্ড ছাড়বেন যা দেশের নারী সমাজকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
বেশ্যা কার্ডের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র পুণ্যভূমিকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কাটার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত শিক্ষক, সহকারী প্রক্টর এবং শিবির শিক্ষার্থীদের ‘অঘোষিত সুগার মাম্মি’ খ্যাত শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। ক্যাম্পাসের বাতাসে জোর গুঞ্জন, কার্ডের ডিজাইন নাকি মোনামি ম্যাডামেরই পছন্দ করা। ল্যামিনেটিং করা এই কার্ডে বিশেষ হলোগ্রাফিক ইফেক্ট দেওয়া হয়েছে, যেখানে আলো পড়লে এক কোণে দাঁড়িপাল্লা এবং অন্য কোণে পাকিস্তানের পতাকার ঝাপসা ছবি ভেসে ওঠে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের আবেঘন বক্তব্যে মোনামি ম্যাডাম বলেন, “আজকের দিনটি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমাদের আমিরে আজম কর্মজীবী নারীদের প্রকৃত পরিচয় দিতে চান ‘বেশ্যা কার্ড’-এর মাধ্যমে। এই কার্ড পার্সে থাকলে আর কোনো আইডি কার্ডের প্রয়োজন হবে না। কার্ডটি নারীদের দেওয়া হলেও এটি পুরুষ জাগরণের এক ডিজিটাল ইশতেহার।”
জামায়াত আমিরের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা মোতাবেক, এই কার্ড বিতরণে কোনো কৃপণতা বা স্বজনপ্রীতিকরা হবে না। প্রজেক্টের প্রথম ধাপে অগ্রাধিকার পাবেন ছাত্রী সংস্থার ‘ত্যাাগী’ বোনেরা। যারা ঘরের বাহিরে বের হয়ে জামায়াতের জন্য মাঠে ঘাটে ও খাটে ভোট ভিক্ষা করে বেড়াচ্ছেন, তাদের মাঝে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। জানা গেছে, এই কার্ডধারীরা ভবিষ্যতে ‘বিশেষ’ ইমানি দায়িত্ব পালনের জন্য অটো-সিলেকশন পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের পরিকল্পনাটি আরও বেশি রোমাঞ্চকর। যখন জামায়াত তাদের স্বপ্নের ‘বাংলাস্তান’ কায়েম করবে এবং মওদুদী ধর্মকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে, তখন দেশের সকল কর্মজীবী নারীকে বাধ্যতামূলকভাবে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। কার্ডধারীদের অবশ্যই নির্দিষ্ট ড্রেসকোড এবং আমিরে আজমের ঠিক করে দেওয়া ‘মহিলা বিষয়ক নীতিমালা’ মেনে চলতে হবে।
এই খবর বাতাসের বেগে ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডাকসু ভিপি এবং ক্যাম্পাসের ‘গুপ্ত আইকন’ সাদিক কায়েম উত্তেজনায় রীতিমতো কাঁপছেন। তিনি নিজের টুপি বারবার ঠিক করতে করতে এবং চশমার গ্লাস মুছতে মুছতে ‘কার্টুনুস ডেইলি’-র প্রতিনিধিকে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড ইজ আ মিথ, বেশ্যা কার্ড ইজ দ্য ফিউচার! আমরা চাই ঘরে ঘরে এই কার্ড পৌঁছে যাক। তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড হলো শেখ হাসিনার কপি পেস্ট করা আইডিয়া, কোন নতুনত্ব নাই, আর আমাদের আমিরে আজমের বেশ্যা কার্ড নারীর প্রকৃত আইডেন্টিটি। এই কার্ড যার আছে, সে নিশ্চিত থাকতে পারে জামায়াতের পায়ের নিচে তার স্থান সর্বদাই থাকবে।”
সাদিক কায়েম আরও যোগ করেন, “চিন্তা করে দেখুন, এই কার্ড থাকলে একজন নারী আর সাধারণ নারী থাকবেন না, তিনি হয়ে যাবেন ‘সার্টিফায়েড বেশ্যা’। বাসে উঠলে তাকে আর সিট খুঁজতে হবে না, পুরুষ যাত্রীরা কার্ড দেখামাত্রই কোলে বসিয়ে নিবে, পুরো জার্নি হবে আরামদায়ক। ফ্যামিলি কার্ডের দিন শেষ, এখন বেশ্যা কার্ডের বাংলাদেশ!”
এদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, “কার্ড তো দিবে কর্মজীবীদের, কিন্তু আমরা তো এখনো স্টুডেন্ট, কর্মক্ষেত্রে ঢুকি নাই বলে কি কার্ড পাবো না?” আবার কেউ কেউ বলছেন, জুলাই বিপ্লবী শিক্ষার্থিদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কর্মজীবী নারীদের বেশ্যা কার্ড দেওয়া জুলাই চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। তারা জামায়াতের আমীরের কাছে এই ধরনের বৈষম্য আশা করে না। তবে ছাত্রী সংস্থার কর্মীরা এসব সমালোচনায় কান দিতে নারাজ। তারা ইতিমধ্যেই কার্ড পাওয়ার আশায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছেন এবং স্লোগান দিচ্ছেন “কার্ডের নাম বেশ্যা, বুঝে নিব হিস্যা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ডের বিপরীতে এই বেশ্যা কার্ড এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, দেশের জনগণ ‘ফ্যামিলি’র মায়ায় জড়ায়, নাকি ‘বেশ্যা’ হওয়ার লোভে লাইনে দাঁড়ায়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, জামায়াত আমির শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, যারা প্রথম এক হাজার বেশ্যা কার্ড সংগ্রহ করবেন, তাদের জন্য থাকবে বিশেষ বোনাস, ‘বাংলাস্তান’ প্রতিষ্ঠার পর তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে বিশেষ কোটা এবং জান্নাতি ফ্লেভারের আতর।