রংপুরে শীতে ১০৩ জনের মৃত্যু, নির্বিকার ড. ইউনূস ও তার এনজিও সরকার

রংপুরে শীতে ১০৩ জনের মৃত্যু, নির্বিকার ড. ইউনূস ও তার এনজিও সরকার। Dr. Yunus and His NGO Government Remain Unmoved as 103 Die in Rangpur Cold. রংপুরে শীতে ১০৩ জনের মৃত্যু, নির্বিকার ড. ইউনূস ও তার এনজিও সরকার। Dr. Yunus and His NGO Government Remain Unmoved as 103 Die in Rangpur Cold.

গত ৩ দিনে রংপুরে শীতে ১০৩ জনের মৃত্যু হলেও নির্বিকার প্রধান উপদেষ্টা। ড. ইউনূসের এনজিও শাসিত বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের জীবনের চেয়ে কি বিদেশি ফান্ড বেশি দামী?

বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক কার্টুনুস: শীতের তীব্রতায় যখন উত্তরাঞ্চলের হাড় কাঁপছে, তখন ঢাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে সংস্কারের নতুন নতুন সংজ্ঞা তৈরি হচ্ছে। গত তিন দিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৩ জন মানুষের মৃত্যুকে যদি আপনি মানবিক বিপর্যয় ভাবেন, তবে আপনি নিতান্তই সেকেলে চিন্তাধারার মানুষ। আধুনিক এনজিও শাসিত বাংলাদেশে মৃত্যু এখন আর শোকের বিষয় নয়, বরং এটি একটি চমৎকার ‘পরিসংখ্যান’। কারণ, পরিসংখ্যান যত ভারী হবে, বিদেশি দাতা সংস্থার ফান্ডের ঝুলি তত দ্রুত পূর্ণ হবে। রংপুরের বাতাসে যখন লাশের গন্ধ আর স্বজনদের আহাজারি ভাসছে, তখন আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস হয়তো প্যারিস বা ওয়াশিংটনের কোনো দাতা সংস্থার সঙ্গে জুম মিটিংয়ে ব্যস্ত, যেখানে তিনি বোঝাচ্ছেন যে কীভাবে এই দরিদ্র মানুষগুলোর দুঃখ বিক্রি করে আরও কিছু ডলার নিজেদের পকেটে ঢুকানো যায়।

বাংলাদেশ, যাকে কিনা দুই বছর আগেও দক্ষিণ এশিয়ার ‘রাইজিং স্টার’ বলা হতো, সেই উদীয়মান সূর্য এখন অস্তগামী সূর্যের মতো নিভু নিভু করছে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস দেশকে এমন এক ‘সংস্কার’-এর মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন, যে সড়কে শুধুই খানাখন্দ আর দুপাশে লাশের সারি। দেশের মানুষ ভেবেছিল উনি ৮ আগস্ট ২০২৪ এ দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নিয়ে দেশ চালাবেন, অথচ তিনি মূলত চালাচ্ছেন একটি বিশাল এনজিও প্রজেক্ট। আর আমরা জানি, এনজিওর মূল মন্ত্রই হলো, মানুষ যত গরিব থাকবে, যত রোগে শোকে ভুগবে, তাদের ব্যবসার পসার তত জমজমাট হবে। রংপুরের ওই ১০৩ জন মৃত মানুষ এবং হাসপাতালে ভর্তি ১৪২১ জন রোগী আসলে এই সরকারের কাছে একেকটি ‘প্রজেক্ট প্রোফাইল’-এর কাঁচামাল। এদের ছবি তুলে, করুণ ভিডিও বানিয়ে ইউরোপ-আমেরিকার কাছে পাঠানো হবে, যাতে দেখানো যায়, দেখুন, আমাদের দেশের অবস্থা কত খারাপ, সামান্য শীত থেকে নিজেদের রক্ষা করার মতো অবস্থাও বাংলাদেশের জনগণের নাই, আমাদের আরও টাকা দিন, আমরা এই শীতার্থ মানুষদের কম্বল বিতরণ করবো।

রংপুর আবহাওয়া অফিস যখন জানাচ্ছে যে তাপমাত্রা ১১-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে, তখন আমাদের ‘সংস্কারক’ সরকারের তাপমাত্রার পারদ চড়ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায়। ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের পরিসংখ্যান টেনে তারা হয়তো বলবে, আগেও তো মানুষ মরত। কিন্তু এই যে ৫ আগস্টের পর ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখানো হলো, তার নমুনা কি এই লাশের মিছিল? উত্তরাঞ্চলের জনজীবন স্থবির হয়ে গেছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কাজের সন্ধানে বের হতে পারছে না, অথচ সরকারের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। ৪৮ লাখ টাকা আর সাড়ে ১২ হাজার কম্বল দিয়ে কি এই বিশাল জনগোষ্ঠীর শীত নিবারণ সম্ভব? এটা অনেকটা সাগরের মাঝখানে এক বালতি পানি ফেলার মতো। কিন্তু তাতে কার কী আসে যায়? সরকার তো আর জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তারা তো এনজিওর ‘ম্যান্ডেট’ নিয়ে এসেছে। তাদের জবাবদিহিতা জনগণের কাছে নয়, তাদের জবাবদিহিতা সেই সব বিদেশি প্রভুদের কাছে, যারা এই সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে।

মেডিসিন আর শিশু ওয়ার্ডে যখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই, তখন আমাদের স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারকরা হয়তো নতুন কোনো সেমিনারে বসে কফি খেতে খেতে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি করছেন। সেখানে গ্রাফ চার্ট দিয়ে দেখানো হবে কীভাবে শীতে মানুষ মরলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। দারিদ্র্য এবং ভৌগোলিক অবস্থানের দোহাই দিয়ে রংপুরের মানুষের মৃত্যুকে জাস্টিফাই করার এক জঘন্য চেষ্টা চলছে। হিমালয়ের কোল্ড ফ্রন্ট বা সাইবেরীয় বায়ুপ্রবাহের কথা বলে তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে। কিন্তু আসল সত্য হলো, এই সরকারের কোনো মেরুদণ্ড নেই, নেই কোনো প্রশাসনিক দক্ষতা। এরা শুধু জানে কীভাবে বিদেশি প্রভুদের খুশি করতে হয় আর কীভাবে দেশের সম্পদ এনজিওর পেটে ঢোকাতে হয়।

ড. ইউনূস ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন না, তিনি দায়িত্ব পালন করছেন গ্রামীণ ব্যাংক এবং তার সহযোগী এনজিওগুলোর সিইও হিসেবে। তার কাছে দেশ মানেই হলো একটি বড় এনজিও, আর জনগণ হলো সেই এনজিওর কিস্তি পরিশোধকারী সদস্য। যদি কিস্তি দিতে না পারে বা শীতে মরে যায়, তবে তাদের নাম খাতা থেকে কেটে দেওয়া হবে, ব্যাস, ঝামেলা শেষ। এই যে রংপুরের মানুষ শীতে কাঁপছে, তাদের জন্য কি কোনো ‘সামাজিক ব্যবসা’র মডেল দাঁড় করানো যেত না? নাকি শীতে কম্বল দেওয়াটা তাদের ব্যবসার মডেলে লাভজনক নয়? সম্ভবত কম্বল বিতরণের চেয়ে শীতার্ত মানুষের ছবি বিক্রি করে ফান্ড আনাটা বেশি লাভজনক, তাই সরকার সেই পথেই হাঁটছে।

সবচেয়ে হাস্যকর এবং মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই সরকারের নজরে রংপুরের মানুষ বা দেশের সাধারণ জনগণ আসলে কোনো ‘সন্তান’ নয়। সম্প্রতি রংপুর এবং উত্তরাঞ্চলের এই মানবিক বিপর্যয়ের খবরে যখন সাংবাদিকরা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন, তখন তার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী। বিশ্বস্ত সূত্রে অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক ঘরোয়া আড্ডায় বলছেন, “রংপুরের কিছু গবাদি মারা গেলেও, আমার সন্তানরা আছে দুধে ভাতে।” এখানে তার ‘সন্তান’ বলতে তিনি দেশের সাধারণ মানুষকে বোঝাননি। তিনি বুঝিয়েছেন সেইসব এনজিওগুলোকে যারা তার ক্ষমতার খুঁটি, আর জুলাই ষড়যন্ত্র ২০২৪-এর সেই লাল সন্ত্রাসী সমন্বয়কদের, যারা তাকে ক্ষমতায় বসাতে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে। এই সমন্বয়করাই এখন তার আদরের সন্তান, যারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে, বিভিন্ন পদে আসীন হচ্ছে, আর ওদিকে রংপুরের মানুষ শীতে জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে।

এই সরকার চায় জনগণ দরিদ্র থাকুক। কারণ জনগণ স্বাবলম্বী হলে এনজিওর সুদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষ সুস্থ থাকলে হেলথ প্রজেক্টের ফান্ড বন্ধ হয়ে যাবে। তাই পরিকল্পিতভাবেই এই অব্যবস্থাপনা জিইয়ে রাখা হয়েছে। তিস্তা, ধরলা আর যমুনা পাড়র মানুষ যখন খড়কুটো জ্বালিয়ে একটু উষ্ণতা পাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন ঢাকায় বসে উপদেষ্টারা এসি রুমের টেম্পারেচার আরও কমিয়ে শীতের আমেজ নিচ্ছেন আর ভাবছেন, আহা, দেশটা কত সুন্দর রিফর্ম হচ্ছে!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনের কথা, কিন্তু তারা ৫ আগস্ট পরবর্তি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগের কথা বলছেন না। যে পরিবর্তনের নামে ধোঁকা দিয়ে দেশটাকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, সেই পরিবর্তনের শীত যে প্রকৃতির শীতের চেয়েও ভয়াবহ, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে দেশবাসী। ড. ইউনূসের এই এনজিও সরকার দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা আর প্রশাসনিক কাঠামোকে এমনভাবে ভেঙে ফেলেছে যে, এখন আর মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর উপায় নেই। সব সেক্টরেই ব্যর্থতা, সব খাতেই হাহাকার। কিন্তু তাদের প্রচারণায় মনে হবে দেশ বুঝি সুইজারল্যান্ড হয়ে গেছে। আসলে দেশ সুইজারল্যান্ড হয়নি, দেশ হয়েছে এনজিওল্যান্ড, যেখানে মানুষ বাঁচে দাতা সংস্থার দয়ায় আর মরে সরকারের অবহেলায়।

পরিশেষে বলতে হয়, এই শীত হয়তো একসময় চলে যাবে, সূর্য আবার উঠবে। কিন্তু ড. ইউনূসের এই ‘সংস্কার’-এর শীতে যে জাতি জমে যাচ্ছে, সেই বরফ গলে কবে আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে, তা কেউ জানে না। রংপুরের ওই মৃত ১০৩ জন মানুষের আত্মা হয়তো আকাশ থেকে তাকিয়ে দেখছে, তাদের মৃত্যু কীভাবে বিক্রি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। আর আমাদের নোবেলজয়ী শাসক তার ‘দুধে ভাতে’ থাকা সমন্বয়ক সন্তানদের নিয়ে হয়তো নতুন কোনো পুরস্কার গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারণ, তার কাছে দেশের মানুষের চেয়ে নিজের ইমেজ আর এনজিওর ব্যালেন্স শিট অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

#, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *