১৫ আগস্ট, ২০২৫ ছিল কার্টুনুস ডেইলি-র প্রথম বর্ষপূর্তি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পাকিস্তানপন্থীদের হাতে বাংলাদেশের পরাজয়ের পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশপন্থার ওপর ধারাবাহিক আঘাত দেখে মনে হচ্ছিল, কিছু একটা করা দরকার। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট আমরা দেখেছিলাম একদল জ*ঙ্গির উন্মত্ততা। ৩২ নম্বর বাড়ি, যাকে বাংলাদেশের প্রসবঘর বলা হয়, সেই ৩২ নম্বরে তথাকথিত ছাত্র-জনতার নামে জঙ্গিদের কুরুচিপূর্ণ নাচগান চলছিল। সেই দৃশ্য আমাদের ভেতরে একরকম ধাক্কা দিল। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম, এসব নোংরামির প্রতিবাদ অবশ্যই করবো, তবে ভিন্নভাবে।
আমাদের প্রতিবাদের ভাষা যেন ৩–৪ দিনের ক্ষণস্থায়ী না হয়; বরং তাদের প্রতিটি নোংরামি, গুন্ডামি আর পাকিপ্রেম যেন আর্কাইভ আকারে জমা হয়, যেন ভবিষ্যতে ৫–১০ বছর পরও কেউ দেখে বুঝতে পারে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশপন্থীদের পরাজয়ের পর পাকিস্তানপন্থীরা কেমন আচরণ করেছিল। ১৫ আগস্ট-ই ঠিক হলো প্রতিদিনের ঘটনা নিয়ে আমরা কার্টুন বানাবো।
এভাবেই জন্ম নিল কার্টুনুস ডেইলি (সাবেক সিম্পসন সাগা বিডি)।
প্রথম সপ্তাহটা কেটেছিল পরিকল্পনা সাজাতে। কীভাবে প্রজেক্টটাকে দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে নেয়া যায়, সেটাই ছিল চ্যালেঞ্জ। নিরাপত্তা তখন একটা বড় ইস্যু, তাই আমরা দেশ থেকে কাউকে যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেই। রিসোর্সও ছিল না বললেই চলে। তবু শুরু করলে যেন দীর্ঘদিন চালানো যায়, সেভাবেই ইনিশিয়াল কন্টেন্ট প্ল্যান সাজানো হলো।
তখন দেশে চলছিল ফেনি বন্যার ভয়াবহতা আর ছাত্রদের কোটি টাকার লুটপাট উৎসব। ২২ আগস্ট শিশু উপদেষ্টা নাহিদ ঘোষণা দিল ‘বিদ্যুৎবিহীন বন্যাকবলিত এলাকায় ফ্রি ইন্টারনেট দেয়া হবে’! অথচ বন্যার্তদের উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে, ত্রাণের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করতেই তারা ব্যস্ত ছিল। আমরা এই ইস্যুটাকে প্রথম কার্টুনের টপিক হিসেবে বেছে নিলাম।
২৩ আগস্ট ২০২৪, সেটি প্রকাশিত হয় সিম্পসন সাগা বিডি পেজ থেকে। এরপর থেকে প্রতিদিনই কোনো না কোনো টপিকে কার্টুন প্রকাশ হতে থাকে
২০২৪ সালের আগস্ট থেকেই আপনাদের ভালোবাসা আমরা পেয়েছি অফুরান। তবে বারবার বাধাও এসেছে। ‘সিম্পসন সাগা বিডি’ প্রভাব খাটিয়ে বন্ধ করে দেয় শিশু উপদেষ্টা নাহিদ। পরদিনই আমরা ফিরলাম ‘কার্টুনুস ডেইলি’ নিয়ে। মাস খানেকের মধ্যেই সেটিও বন্ধ করে দেয়া হলো। আবার ফিরলাম ‘কার্টুনুস ডেইলি ২.০’ নামে।
এর মাঝেই আগের ‘সিম্পসন সাগা বিডি’ পেজটা ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার করা গেল। কিন্তু তখন ‘কার্টুনুস ডেইলি’ নামেই পরিচিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। আমরা দ্বিধায় পড়লাম, ফিরব কি আগের নামে, নাকি নতুন নামেই চলব? শেষমেশ সিদ্ধান্ত হলো ‘কার্টুনুস ডেইলি’ নামেই এগোনো হবে। আগের পেজের নাম বদলে নতুন নামে নিয়ে আসা হলো। তবে এখনো URL-এ SimpsonSagaBD নামটারেখে দেওয়া হয়েছে।
শুধু ফেসবুক নয়, আমাদের ইন্সটাগ্রাম ও টুইটার একাউন্টও একাধিকবার সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবুও কার্টুনুস দমে যায়নি। যেখানে প্রতিটি কার্টুনে ৪–৫ হাজার রিয়েক্ট আসত, সেই পেজ সাসপেন্ড হওয়ার পরের দিনই আমরা নতুন পেজ খুলে শূন্য থেকে একই উদ্যমে কার্টুন প্রকাশ করতে থেকেছি। বারবার এমন শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে।
এখানেই আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রতিবার সাসপেন্ডের পরেও আপনারা আমাদের খুঁজে পেয়েছেন, পাশে থেকেছেন।
আমাদের খুব শিগগির থেমে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। যে উদ্দেশ্যে কার্টুনুস শুরু হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্যেই আমরা কাজ চালিয়ে যাবো।
যুদ্ধটা দীর্ঘ তাই লেগে থাকতেই হবে।