‘টেবিলে পা ঝুলিয়ে’ দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর কাছে ইতিহাস শিখেছেন ফাতিমা তাসনিম জুমা! ফোনাসে*ক্সের সেই নাতনিই আজকের ডাকসুর ‘মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক’ সম্পাদক।
বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক কার্টুনুস: ইতিহাসের চাকা নাকি পেছনের দিকে ঘোরে না, তবে আমাদের ডাকসুর ‘মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক’ সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, চাকা শুধু পেছনেই ঘোরে না, বরং সেই চাকা ৪৭ সালে গিয়ে এমনভাবে জ্যাম হয়ে যেতে পারে যে সেখান থেকে আর একচুলও নড়ে না। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে তিনি এক যুগান্তকারী স্ট্যাটাস প্রসব করেছেন। সেখানে তিনি ১৯৭১ সালকে নিছক এক ‘ঘটনা’ এবং ৪৭-কে ‘আসল বিজয়’ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। ৩০ লক্ষ শহীদকে তিনি জাদুকরী কায়দায় ‘সহস্র’ বানিয়ে দিয়েছেন। গণিতের এই অভিনব সূত্র দেখে পিথাগোরাসও কবরে শুয়ে নড়েচড়ে বসেছেন। তবে জুমার এই ইতিহাস চেতনার উৎস কোথায়? কেন তিনি পাকিস্তানকে পাকিস্তান বলতে লজ্জা পান, আবার সেই পাকিস্তানের প্রেমেই হাবুডুবু খান? এই রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জুমা জানিয়েছেন, তার এই ইতিহাসের প্রাইভেট টিউটর আর কেউ নন, স্বয়ং চাঁদে দেখা যাওয়া মহাপুরুষ, বিশিষ্ট ললনা-রসিক ও মেশিন-বিশারদ দেলোয়ার হোসেন সাঈদী।
সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে ফাতিমা তাসনিম জুমা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, পাঠ্যবইয়ের ইতিহাস সব ভুয়া। আসল ইতিহাস তিনি শিখেছেন মুঠোফোনে, একান্ত গোপন টিউশনির মাধ্যমে। তিনি বলেন, আপনারা যাকে ২০১৩ সালের ‘সাঈদী-লিকস সেক্স স্ক্যানডাল’ বলেন, সেটা আসলে ছিল গুরু-শিষ্যের এক নিবিড় ইতিহাস চর্চা। ওই যে সাঈদী দাদু ফোনে এক তরুণীকে আদর করে ‘নাতনি’ ডাকছিলেন, সেই নাতনি তো আমিই ছিলাম! তখন আমার বয়স কম ছিল, তাই দাদু আমাকে আদর করে ইতিহাসের কঠিন পাঠগুলো সহজ করে বোঝাচ্ছিলেন। লোকে বলে দাদু নাকি খারাপ কথা বলছিল, ছিঃ! দাদু তো আমাকে বলছিলেন, ‘মেশিন চলবে’। এই মেশিন তো কোনো অশ্লীল মেশিন নয়, এটা হলো ‘ইতিহাসের রিরাইটিং মেশিন’। দাদু বলেছিলেন, এই মেশিন একবার চালু হলে ৭১-এর ইতিহাস ভ্যানিশ হয়ে যাবে, আর ৪৭-এর ইতিহাস প্রিন্ট হয়ে বের হবে। আমি সেই মেশিন ব্যবহার করেই তো আজকের স্ট্যাটাস দিয়েছি।
জুমা আরও আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, সেই ফোনালাপে সাঈদী দাদু আমাকে বলেছিলেন, ‘টেবিলে উঠে পা ঝুলিয়ে দাও’। মূর্খ বাঙালি ভাবল, এটা বুঝি কোনো খারাপ ইঙ্গিত! আরে না! দাদু আসলে আমাকে রূপক অর্থে বুঝিয়েছিলেন। তিনি বলতে চেয়েছিলেন, ইতিহাসের টেবিলে উঠে ওপর থেকে তাকাও, তাহলে দেখবে একাত্তর খুব ছোট, আর সাতচল্লিশ অনেক বড়। পা ঝুলিয়ে দেওয়ার মানে হলো, আরাম করে বসে টেনশন ফ্রি হয়ে চিন্তা করা। দাদু আমাকে শিখিয়েছিলেন, ১৯৭১ সালে যা হয়েছে তা সব ইন্ডিয়ার ষড়যন্ত্র। দাদু তো একাত্তরে পিরোজপুরে বসে শুধু বিস্কুট আর লজেন্স বিলি করেছিলেন, অথচ লোকে তার নামে মানুষ হত্যার অপবাদ দেয়। দাদু আমাকে ফোনে ফিসফিস করে বলেছিলেন, ‘নাতনি রে, ৩০ লক্ষ মানুষ মরে নাই, ওটা ইন্ডিয়ান মিডিয়ার প্রপাগান্ডা। বড়জোর কয়েক হাজার (সহস্র) লোক মারা গেছে, তাও হার্ট অ্যাটাকে বা ভয়ে। আমরা রাজাকাররা তো তখন মানুষের জানমাল রক্ষা করতে ব্যস্ত ছিলাম।’
ফাতিমা তাসনিম জুমার এই দাবির পর অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। কেন তিনি তার স্ট্যাটাসে ‘পাকিস্তান’ শব্দটা লেখেননি? কারণ সাঈদী দাদু তাকে শিখিয়েছিলেন, ভালোবাসার মানুষের নাম মুখে নিতে নেই, তাতে নজর লেগে যায়। পাকিস্তান তো তাদের কাছে এক হারানো প্রেমিকের মতো, যার নাম নিলেই বুকে হাহাকার জাগে। তাই তিনি সন্তর্পণে ‘হাজার মাইলের ব্যবধান’ বা ‘শোষণের ইতিহাস’ বলে পাশ কাটিয়ে গেছেন। আসলে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ৪৭-এর সেই লাড্ডুই ছিল আসল অমৃত, ৭১-এ আমরা যা পেয়েছি তা হলো ভেজাল। জুমার মতে, ২০২৪ সালের আন্দোলনই হলো আসল মুক্তি, কারণ এই আন্দোলনের মাধ্যমে তারা আবার সেই ৪৭-এর ‘মেশিন’ চালু করার সুযোগ পেয়েছেন। ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধারা যা পারেননি, সাঈদী দাদুর ‘মেশিন’ এবং জুমার মতো নাতনিরা মিলে এবার তা করে দেখাবেন।
ফোনে সাঈদী দাদু তাকে আরও বলেছিলেন, ‘আরেক স্টাইলে আজ মেশিন চলবে’। ফাতিমা তাসনিম জুমা এর ব্যাখ্যায় বলেন, ইতিহাসের আগের স্টাইল ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আর দাদুর শেখানো নতুন স্টাইল হলো ‘৭১-কে ছোট করো, ৪৭-কে বড় করো’। এই নতুন স্টাইলেই এখন মেশিন চলছে। দাদু বলেছিলেন, দেখবা নাতনি, একদিন তুমি বড় নেত্রী হবে, তখন আমার এই শিক্ষা জাতির সামনে তুলে ধরবে। আজ আমি সেই দায়িত্ব পালন করছি। মানুষ আমাকে গালি দিচ্ছে, কিন্তু তারা জানে না, আমি এক মহান ‘মেশিনম্যান’-এর হাতে গড়া শিষ্যা।
অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন তুলেছেন, সাঈদী তো একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। জুমার কাছে এর উত্তরও রেডিমেড। তিনি বলেন, ওসব আদালতের রায় ছিল দুনিয়াবি ভুল। সাঈদী দাদু ফোনে আমাকে বলেছিলেন, ৭১-এ তিনি নাকি মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করতে তাদের নিজের হেফাজতে নিতেন। মানুষ সেটাকে ভুল বুঝেছে। দাদু তো নারীদের খুব সম্মান করতেন, তাই তো আমার মতো নাতনি বয়সী মেয়ের সঙ্গেও তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে ‘রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ’ আলোচনা করতেন। সেই আলোচনায় মাঝে মাঝে একটু ‘উহ্ আহ্’ শব্দ হতো, সেটা ছিল আসলে ইতিহাসের করুণ অধ্যায় মনে করে আমাদের দুজনের দীর্ঘশ্বাস।
জুমা দাবি করেন, এই যে তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি ব্যবহার না করে ‘রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ’ লিখলেন, এটা দাদুর নির্দেশ। দাদু বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ বললে তো মনে হয় আমরা পরাধীন ছিলাম। আমরা তো পাকিস্তানের অংশ হিসেবে সুখে-শান্তিতেই ছিলাম, শুধু ইন্ডিয়ার দালালরা এসে সব নষ্ট করে দিল। তাই এখন থেকে ইতিহাস হবে ‘সহস্র শহীদের’ এবং ‘৪৭-এর বিজয়ের’। আর যারা ৩০ লক্ষ শহীদের কথা বলবে, তারা সব ‘মিথ্যাবাদী’। জুমার এই ‘ফোনাসেক্স-লব্ধ’ জ্ঞান এখন ফেইসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি মনে করেন, তার এই স্ট্যাটাস পড়ার পর জাতি নতুন করে ভাববে। জাতি বুঝবে, এতদিন তারা ভুল ইতিহাসে বাস করছিল। আসল ইতিহাস তো লুকিয়ে ছিল সাঈদী সাহেবের সেই জাদুকরী মেশিনে, যা এখন জুমার হাত ধরে ফুল স্পিডে চলছে।
পরিশেষে জুমা মুচকি হেসে বলেন, আপনারা যতই ট্রল করেন, মেশিন কিন্তু চলছে এবং চলবেই। সাঈদী দাদু নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া অডিও টেপ আর তার নাতনিরা আছে। আমরা ৪৭-এর বিজয়কে আবার ফিরিয়ে আনব। তখন আর ১৬ ডিসেম্বর নিয়ে মাতামাতি হবে না, ১৪ আগস্টে আমরা হালুয়া-রুটি খাব আর দাদুর সেই বিখ্যাত “পান চলবে, মেশিন চলবে” ওয়াজ শুনব। আর হ্যাঁ, আমি কিন্তু এখন আর ছোট নেই, টেবিলের ওপর উঠে পা ঝুলিয়ে ইতিহাস দেখতে আমার আর কোনো সমস্যা হয় না। দাদুর মেশিন আমার সঙ্গে আছে।
#৩ লক্ষ নাকি ৩০ লক্ষ শহীদ, #৩০ লক্ষ শহীদ, #৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ, #৩০ লক্ষ শহীদ বাহুল্য নাকি বাস্তবতা, #৩০ লক্ষ শহীদ বিতর্ক, #৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে, #৪৭ এর দেশভাগ, #Cartunus Daily, #ইতিহাস বিকৃতি, #ইতিহাস মুছে ফেলা, #একাত্তরের বদলা, #কার্টুনুস ডেইলি, #জামায়াতে ইসলামীর চক্রান্ত, #ডাকসু, #ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, #দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, #দৈনিক কার্টুনুস, #নব্য রাজাকার, #পাকিস্তান প্রীতি, #পাকিস্তান সেনাবাহিনী, #ফাতিমা তাসনিম জুমা, #মুক্তিযুদ্ধ, #মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, #মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, #মেশিন চলবে, #মেশিনম্যান সাঈদী, #রাজাকার, #রাজাকারের এজেন্ডা, #শহীদদের অপমান, #সহস্র শহীদ, #সাঈদীর ফোনালাপ, #স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি