ঈদ এসে গেছে। দোকানগুলো ঝলমলে, শপিং মলগুলোতে মানুষের ভিড়। কিন্তু যারা এই পোশাক বানায়, সেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের কী অবস্থা? তারা ৬ মাস ধরে বেতন পায় না, ঈদের নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, ঠিকমতো খেতেও পারছে না।
একটি পোশাকের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি শিশুর কথোপকথন।
– “তোরাও ঈদে নতুন কাপড় কিনিস নাই?”
-“আমাদের মা গার্মেন্টসে কাজ করে। ৬ মাস ধরে বেতন পায় না।”
রূপক অর্থে হলেও এই কথোপকথনই বাংলাদেশের শ্রমিক বাস্তবতার নগ্ন চিত্র তুলে ধরে।
শ্রমিকরা তাদের শ্রম, ঘাম আর জীবন উৎসর্গ করে গার্মেন্টস শিল্পকে দাঁড় করিয়েছে, অথচ তারাই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। গতকাল ঢাকার রাস্তায় ক্ষুধার্ত শ্রমিকরা বাসন হাতে ভুখা মিছিল করেছে। কিন্তু ইউনূস সরকার কি তাদের কথা শুনেছে? না! শ্রমিকদের আন্দোলনের জবাবে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, প্রতারণা আর চরম অমানবিকতা দেখানো হচ্ছে।
শ্রম সচিব ফোন ধরেন না, মালিকরা গাড়ি বিক্রির ভেলকিবাজি দেখায়, আর শ্রম উপদেষ্টা গণমাধ্যমে দাঁড়িয়ে নির্লজ্জ মিথ্যা বলেন—”পাওনা পরিশোধ হয়ে গেছে!” শ্রমিকরা তখনও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে, ক্ষুধার্ত, বঞ্চিত!
এই কি আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছরের অর্জন? শ্রমিকরা তাদের উৎপাদিত কাপড় বিদেশে পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখে, অথচ তারাই সবচেয়ে অবহেলিত। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশি গার্মেন্টস শিল্পের সাফল্যের গল্প ছাপানো হয়, কিন্তু সেই সফলতার পেছনে থাকা শ্রমিকদের দুর্দশা চাপা পড়ে যায়।
এই শোষণমূলক ব্যবস্থার অবসান চাই। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করতেই হবে। ইউনূস রেজিম যদি এইভাবে শ্রমিকদের রক্ত চুষতে থাকে, তবে এই অবৈধ রেজিম বেশি দিন টিকবে না। সময় আসছে, মানুষ তার হিসাব চেয়ে নেবে!