ইফতার সামগ্রীর দাম দ্বিগুণ, সমন্বয়ক উপদেষ্টাদের ফার্স্ট ইফতার ডান

ইফতার সামগ্রীর দাম দ্বিগুণ, বিপাকে সাধারণ মানুষ

রমজানের ইফতার আয়োজনে এবার বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। গত বছর যেখানে মাত্র ২-৩ টাকায় একটি পেঁয়াজু কেনা যেত, এবার তার দাম দাঁড়িয়েছে ৬-১০ টাকা। ছোলার প্লেট, যা আগে মাত্র ১০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন কিনতে হবে ২০ টাকায়। একইভাবে, বেগুনির দাম ৩-৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬-১০ টাকা, আর একটি জিলাপি কিনতে লাগবে ১০-১৫ টাকা, যা আগের বছর ৬-৮ টাকায় মিলতো।

শুধু এসবই নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দামও লাফিয়ে বেড়েছে। বাংলা কলা, যা এতদিন ৮-১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা ১৫-২০ টাকা হয়েছে। মুড়ি, চিড়া, লেবু, শসা, কাঁচামরিচসহ ইফতারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে বেড়ে গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, তেল, চিনি সবকিছুর দামই আকাশছোঁয়া। কয়েক মাস আগেও যেখানে ৫০ কেজির চালের বস্তা ৩২০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৩৮০০ টাকারও বেশি। সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৭৫ টাকা হলেও সংকটের কারণে অনেক জায়গায় ১৯০-২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারেও আগুন— মাত্র কয়েক দিন আগে ২০-৩০ টাকায় পাওয়া যাওয়া বেগুন এখন ৫০-৬০ টাকা কেজি, টমেটো ১০০-১২০ টাকা প্রতি ৫ কেজি থেকে বেড়ে এখন ৪০-৬০ টাকা কেজি। সালাদের জন্য জনপ্রিয় ছোট শসা ৩০-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৮০ টাকা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লেবুর দাম— যেখানে আগে ছোট লেবুর ডজন ছিল ৬০-৮০ টাকা, বড় লেবুর ডজন ১০০-১২০ টাকা, সেখানে এখন প্রতি পিস লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়, অর্থাৎ এক ডজন লেবুর দাম ২০০ টাকারও বেশি!

এই ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, “নতুন সরকার আসার পরও ভোক্তারা নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের যাঁতাকলে রয়ে গেছেন। বরং অনেক পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইফতারের বাজারে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন।”

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন শাসক শ্রেণির বিলাসিতা চোখে পড়ার মতো। শত কোটি টাকা ব্যয় করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন, প্রতিদিন রাজকীয় ভোজসভা— এসবই চলছে সমানতালে। যাঁরা একসময় তিন বেলা খাবারের সংস্থান করতে পারতেন না, তাঁদের অনেকেই এখন অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যেন আলাদিনের চেরাগ তাদের হাতে! সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার দিকে নজর দেওয়ার সময় নেই কারও।

By Cartunus Daily

Cartunus Daily delivers cartoons that add a touch of humor and perspective to the latest happenings in Bangladesh. Our goal is simple: to make you smile. We’re not connected to any brand, business, or public figure—just here for some fun & fresh insights.