ক্ষমতায় গেলে গাঁজা সেবন বাধ্যতামূলক করবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ

ক্ষমতায় গেলে গাঁজা সেবন বাধ্যতামূলক করবে জামায়াতে ইসলামী। Jamaat-e-Islami to Make Cannabis Consumption Mandatory If They Come to Power. ক্ষমতায় গেলে গাঁজা সেবন বাধ্যতামূলক করবে জামায়াতে ইসলামী। Jamaat-e-Islami to Make Cannabis Consumption Mandatory If They Come to Power.

আসছে গ্রেট গাঁজা সিভিলাইজেশন! সুস্থ মস্তিষ্কে তাদের মুনাফেকি সহ্য করা কঠিন, তাই ক্ষমতায় গেলে গাঁজা সেবন বাধ্যতামূলক করবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।

বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক কার্টুনুস: দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে এক যুগান্তকারী ও ধোঁয়াশাময় ইশতেহারের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বাতাসে। এতদিন আমরা জানতাম, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংবিধান লাগে, আইন লাগে, মাঝে মাঝে নির্বাচন লাগে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এক নতুন তত্ত্ব, রাষ্ট্র চালাতে গেলে সবার আগে লাগে ‘সুখটান’। মানে নিরেট মাল। কারণ, হবু বা সম্ভাব্য কোনো এক হুকুমতে-ইলাহিয়া যদি ভুল করেও ক্ষমতায় চলে আসে, তবে সেই দেশে সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো মানুষের পক্ষে বসবাস অসম্ভব। তাই আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দলের থিঙ্কট্যাংক (যাদের ট্যাংকে চিন্তার বদলে ধোঁয়া বেশি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সরকার গঠনের প্রথম দিনেই গাঁজাকে ‘জাতীয় সবজি’ এবং গাঁজা সেবনকে ‘নাগরিক দায়িত্ব’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। আর এই প্রোজেক্টের কোড নেম ‘অপারেশন গাঁজা’।

কেন এই অভিনব সিদ্ধান্ত? এর পেছনের কারণ খুঁজতে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে রংপুরের পীরগাছা ও ঝালকাঠির সাম্প্রতিক আধ্যাত্মিক বয়ানগুলোর দিকে। রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান, যিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং পরে বসে পড়েছেন (বা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে), ১০ জানুয়ারি তিনি এক অবিস্মরণীয় তত্ত্ব পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোটা নাকি হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর পুত্র কোরবানির চেয়েও বড় কোরবানি! নাউজুবিল্লাহ বলার আগে একটু দম নিন। এই কথা শোনার পর একজন সাধারণ, সুস্থ মস্তিষ্কের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের তো হার্ট অ্যাটাক হওয়ার দশা। হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সন্তানকে কোরবানি দিতে গিয়েছিলেন, আর জামায়াতের এই খান সাহেব এমপি হওয়ার লোভে নমিনেশন পেপার জমা দিয়ে পরে রাজনৈতিক সমীকরণে সেটা প্রত্যাহার করে বলছেন, এটা নাকি নবীর কোরবানির চেয়েও বড়! এই পর্যায়ের চাপাবাজি এবং ধর্মের এমন ভয়ানক অপব্যাখ্যা হজম করতে হলে আপনার পাকস্থলীতে সাধারণ এনজাইম থাকলে চলবে না, সেখানে থাকতে হবে হাই-ভোল্টেজ ক্যানাবিনয়েড। সুস্থ মাথায় এই লজিক শুনলে মানুষ হয় পাগল হবে, নয়তো ওই নেতার দিকে জুতা স্যান্ডেল ছুড়ে মারবে। তাই জনগণকে শান্ত রাখতে, তাদের মস্তিষ্কের লজিক গেটগুলো অকেজো করে দেওয়াই হবে এই দলের প্রধান এজেন্ডা। আর সেটা একমাত্র সম্ভব যদি আপামর জনতা সকাল-বিকেল ‘দম মারো দম’ অবস্থায় থাকে।

অন্যদিকে ঝালকাঠিতে আরেক হুজুর তো জান্নাতের শর্টকাট রাস্তা বের করে ফেলেছেন। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর নেতা ড. ফয়জুল হক বলেছেন, বিড়িতে সুখটান দিতে দিতে যদি কেউ দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেয়, তবে আল্লাহ নাকি মাফ করে দিতে পারেন! সুবহানাল্লাহ! মানে, আপনি বিড়ি খাবেন, ফুসফুস কালো করবেন, আর সেই ধোঁয়ার রিং বানিয়ে ভোটের দাওয়াত দিলেই কেল্লাফতে? ইসলামের দাওয়াত এখন নিকোটিনের ধোঁয়ায় প্যাকেটজাত? এই যে ইসলামকে বিড়ির ধোঁয়ার সাথে গুলিয়ে ফেলার অভিনব ‘ব্র্যান্ডিং’, এটা কোনো সুস্থ সমাজের মানুষ মেনে নেবে না। কিন্তু আপনি যদি দুই পুরিয়া গাঁজা টেনে টং দোকানে বসে থাকেন, তখন যদি কেউ এসে বলে, “ভাই, বিড়ির ধোঁয়ায় সওয়াব আছে”, আপনি তখন বড় বড় লাল চোখ করে বলবেন, “হক কথা ভাই, বিড়ি তো বেহেশতের আগরবাতির ছোট সংস্করণ।” এই যে অযৌক্তিক কথাকে যৌক্তিক মনে করানোর ম্যাজিকই হচ্ছে ‘অপারেশন গাঁজা’।

ধর্ম ব্যবসায়ীরা খুব ভালো করেই জানে, ডিজিটাল যুগে মানুষ আর আগের মতো বোকা নেই। এখন গুগলে সার্চ দিলেই কোরআনের আয়াত আর হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। সুরা বাকারার ৪১ নম্বর আয়াতে যে আল্লাহ তাঁর আয়াতকে সামান্য মূল্যে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন, কিংবা ৭৯ নম্বর আয়াতে ধর্ম নিয়ে মিথ্যাচারকারীদের ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে, এসব এখন পাবলিক জানে। পাবলিক যখন দেখে, একদল লোক কোরআনের আয়াতকে নিজেদের ভোটের বাক্সে কনভার্ট করার চেষ্টা করছে, তখন পাবলিকের মেজাজ বিগড়ে যায়। আর মেজাজ বিগড়ে গেলেই তারা প্রশ্ন করে। আর প্রশ্ন করলেই মুনাফেকদের মুখোশ খুলে যায়। এই ‘প্রশ্নফাঁস’ ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো জাতিকে নেশায় বুঁদ করে রাখা। চিন্তা করুন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর এইসব মুনাফেকরা যদি ক্ষমতায় আসে, আর তারা যদি মাইকে ঘোষণা করে যে, “আমাদের ঘরে তোমাদের নারীদের পাঠানো মানে জিহাদে সামিল হওয়া”, কিংবা “ আমাদেরকে তোমাদের পুত্র সন্তানদের বলাৎকার করতে না দিলে তোমাদের ইমান থাকবে না”, তখন সুস্থ মানুষ মাত্রই বিদ্রোহ করবে। কিন্তু যদি সরকারি রেশনে চালের বদলে গাঁজা ফ্রি করে দেওয়া হয়? তখন জনগণ বলবে, “হুজুর যা বলেন তাই ঠিক। নারীদেরও হুজুরদের ঘরে পাঠাবো, বলাৎকারও করতে দিব।”

ভবিষ্যৎ এই গাঁজা-রিপাবলিকের চিত্রটা কেমন হতে পারে? কল্পনা করুন, সচিবালয়ে ফাইলের বদলে গাঁজার কল্কি ঘুরছে। মন্ত্রী মহোদয় ফাইলে সই করার আগে এক টান দিয়ে বলছেন, “আহা, কী স্পিরিচুয়াল ফিলিংস!” শিক্ষা ব্যবস্থায় হয়তো ‘ রোলিং সায়েন্স’ নামে নতুন বিভাগ খোলা হবে, যেখানে শেখানো হবে কীভাবে নিখুঁতভাবে জয়েন্ট বানাতে হয়। কারণ, নেতারা জানেন, তাদের ভণ্ডামি, তাদের এই ধর্মের নামে ব্যবসা, তাদের এই মিথ্যাচার, এসব কোনো সুস্থ বিবেকবান মানুষ মেনে নেবে না। রংপুরের এ টি এম আজম খানের মতো যারা নিজেদের ত্যাগকে নবীর ত্যাগের ওপরে স্থান দেয়, তাদের শাসন মেনে নিতে হলে আপনার বিবেককে অবশ্যই আইসিইউতে পাঠাতে হবে। আর জামায়াত বিবেককে আইসিইউতে পাঠানোর সবচেয়ে সস্তা ও কার্যকরী ওষুধ হিসেবে খুজে পেয়েছে “গাঁজা”। যখন পুরো জাতি ‘পিনিক’-এ থাকবে, তখন দাঙ্গা লাগলেও মনেদ হবে, আরে, এটা তো অ্যাকশন মুভির শুটিং চলছে! জামায়াতে ইসলামী নামের এই মুনাফেকদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, তারা মুখে বলে এক, করে আরেক। আর এই ‘দ্বিমুখী নীতি’ সহ্য করার জন্য দরকার হয় চরম পর্যায়ের উদাসীনতা। গাঁজা মানুষকে সেই কাঙ্ক্ষিত উদাসীনতা উপহার দিবে।

মূল কথা হলো, ধর্মকে যারা ‘প্রোডাক্ট’ আর ইমানকে যারা ‘কারেন্সি’ বানিয়ে ফেলেছে, তাদের রাজত্বে সত্য কথা বলা হবে সবচেয়ে বড় অপরাধ। কারণ সত্য তাদের ব্যবসার ক্ষতি করে। তাই তাদের শাসনামলে সিলেবাস থেকে ‘যুক্তিবিদ্যা’ বাদ দিয়ে ‘ঝিমুনি বিদ্যা’ চালু করা হবে। আপনি যদি প্রশ্ন করেন, “হুজুর, আপনি যে বললেন বিড়িতে সুখটান দিলে মাফ পাওয়া যায়, এটা কোন কিতাবে আছে?” সাথে সাথে আপনার নামে ব্লাসফেমি বা অন্য কোনো মামলা হয়ে যেতে পারে। তার চেয়ে বরং আপনি যদি নেশায় বুঁদ হয়ে বলেন, “হুজুর, বিড়িতে কাজ হচ্ছে না, কল্কিটা এগিয়ে দেন, আরও বেশি সওয়াব কামাই করি”, তবেই আপনি হবেন আদর্শ নাগরিক।

পরিশেষে বলা যায়, রংপুরের এ টি এম আজম খান এর ‘ইব্রাহিম (আ.)-এর চেয়েও বড় কোরবানি’র দাবি আর ঝালকাঠির ড. ফয়জুল হক এর ফতোয়া, এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এগুলো হলো আসন্ন ‘গ্রেট গাঁজা সিভিলাইজেশন’ এর ট্রেলার। সুতরাং, হে দেশবাসী, তৈরি হোন। যদি কপালে এই মুনাফেকদের শাসন জোটে, তবে সাথে লাইটার আর রোলিং পেপার রাখতে ভুলবেন না। কারণ, এই দেশে সুস্থ থেকে পাগল হওয়ার চেয়ে, নেশা করে পাগল সেজে থাকা অনেক বেশি নিরাপদ!

#, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *