রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে ককটেল মহাবিস্ফোরণ, আঘাতে ঠোঁট হারালেন নাগরিক পার্টির নেতা

রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে ককটেল মহাবিস্ফোরণ, আঘাতে ঠোঁট হারালেন নাগরিক পার্টির নেতা | Massive cocktail explosion at Rupayan Trade Centre; Nagorik Party leader loses lip in the attack.রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে ককটেল মহাবিস্ফোরণ, আঘাতে ঠোঁট হারালেন নাগরিক পার্টির নেতা | Massive cocktail explosion at Rupayan Trade Centre; Nagorik Party leader loses lip in the attack.

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই মাসের তীব্র গরমে যখন দেশবাসীর আইসক্রিম খাওয়ার ধুম, ঠিক তখনই জুলাই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গঠিত হইয়াও ব্যর্থ হওয়া রাজনৈতিক দলের সদর দপ্তর রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে ঘটিয়া গেল এক প্রলয়ংকরী ককটেল বিস্ফোরণ। রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় অবস্থিত রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের পাদদেশে একটি পটকা ফুটিয়া এমনই তীব্র শব্দ হইয়াছে যে, ১৬ তলা ভবনের ১৬ তলার বাসিন্দা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের অন্তরাত্মা কাঁপিয়া উঠিয়াছে। এই ঘটনায় দুইজন সামান্য আহত এবং একজন নেতার ঠোঁট ফুলিয়া যাওয়ায় দলটি ইহাকে নিজেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বলিয়া অভিহিত করিয়াছে এবং ইহার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী বিপ্লবের ডাক দিয়াছে।

সোমবার রাত্র ১০টা ৪০ মিনিটে এই ঐতিহাসিক পটকা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিবরণে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, রূপায়ণ টাওয়ারের ভূ-কম্পন বিশ্লেষক ও পটকা গবেষক আল্লামা আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “আমাদের পার্টির প্রাণভোমরা, জুলাই আগস্টের মেটিকুলাস ডিজাইনের নব্য চে গুয়েভারা, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মহানায়ক আল্লামা আখতার হোসেন যখন ১৬ তলার স্বর্গীয় কার্যালয় হইতে মর্ত্যে নামিয়া আসিতেছিলেন, তখন তাঁহাকে ঘিরিয়া প্রায় ৫০-৬০ জন বিপ্লবী জনতা (যাহাদের অধিকাংশই ছিলেন পার্শ্ববর্তী চায়ের দোকানের ক্রেতা এবং উবার ব্যবহারকারী) স্লোগান দিতেছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলামোটর সিগন্যালে সবুজ বাতি জ্বলিয়া উঠিলে কোথা হইতে যেন এক দৈত্যাকার সাদা হাইয়েস গাড়ি আসিয়া আমাদের লক্ষ্য করিয়া একটি আন্তর্জাতিক মানের শব্দবোমা নিক্ষেপ করিয়া তীব্র গতিতে হাওয়া হইয়া যায়।”

হুহু করিয়া কাঁদিয়া উঠিয়া আল্লামা আদীব বলেন, “ককটেল বোমাটি এতই শক্তিশালী ছিল যে, উহার শব্দে আমাদের শ্রমিক উইংয়ের সংগঠক শফিকুল ইসলামের পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে চিকুনগুনিয়া মশা কামড়াইলে যেমন অনুভূতি হয়, ঠিক তেমনই অনুভূতি হইয়াছে। আর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাজারীবাগ থানা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব সুমন হোসেনের নতুন কেনা পাজামায় কাদা লাগিয়া গিয়াছে। ইহা ছাড়া আমাদের কার্যালয়ের কর্মচারী মনিরের চায়ের কাপটি হাত হইতে পড়িয়া যাওয়ায় সে তীব্র মানসিক আঘাতে ভুগিতেছে। তবে সবচাইতে বড় ক্ষতি হইয়াছে আমাদের আরেক নেতার। তিনি পটকার শব্দে ‘গেলাম গেলাম’ বলিয়া চিৎকার দিয়া দৌড়াইতে গিয়া অপর এক কর্মীর কনুইয়ের সহিত ঠোঁটের সংঘর্ষে মারাত্মকভাবে আহত হইয়াছেন। তাঁহার ঠোঁট ফুলিয়া বর্তমানে মাল্টার আকার ধারণ করিয়াছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

এদিকে, জনসমর্থন শূন্যের কোঠায় নামিয়া আসায় দলটি যে বেশ কিছুদিন ধরিয়া হতাশায় ভুগিতেছিল, তাহা আর গোপন নাই। আগস্ট মাসে একদল অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সেনা কর্মকর্তাকে লইয়া সরকার উৎখাতের পর বিপ্লবী সরকার গঠনের দিবাস্বপ্ন দেখিয়াছিলেন দলটির নেতারা, তাহা ভণ্ডুল হইয়া যাওয়ায় দলের কর্মীদের মনোবল তলানিতে ঠেকিয়াছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্টির এক শীর্ষ নেতা জানান, “জুলাই আগস্টের মেটিকুলাস ডিজাইন ফ্লপ করার পর কর্মীরা আর অফিসে আসিতে চায় না। কেউ কেউ এখন রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায়ে মন দিয়াছে, কেহ কেহ টিকটক সেলিব্রেটি হইবার চেষ্টা করিতেছে। তাই কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করিতে এবং জাতির সামনে নিজেদের বিপ্লবী সত্তা তুলিয়া ধরিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। এই পটকা সেই পদক্ষেপ।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম, নিজেরা মশাল মিছিল করব। কিন্তু পরে দেখিলাম, মশাল কিনিতে যে টাকা লাগে, তাহার চাইতে অনেক কম টাকায় কয়েক প্যাকেট পটকা কেনা যায়। তাই আমরা ‘স্বল্প খরচে বিপ্লব’ নীতির আওতায় এই পটকা ফুটানোর সিদ্ধান্ত লই। আমাদের সদস্যসচিব, আল্লামা আখতার হোসেন এই আইডিয়াটিকে ‘শতাব্দীর সেরা বিপ্লবী কৌশল’ বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন।”

ঘটনার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা পূর্বপ্রস্তুত ব্যানার লইয়া বাংলামোটর মোড়ে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেন। দুইজন আহত, একজন ঠোঁট ফুলা বিপ্লবী এবং গোটা দশেক ভাড়া করা লোক লইয়া সেই মিছিল হইতে দেশের পতিত স্বৈরাচারী গোষ্ঠীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাদা হাইয়েস গাড়িটি খুঁজিয়া বাহির করিবার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

পার্টির দপ্তর সম্পাদক, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সংঘের প্রাক্তন সদস্য আল্লামা সালেহ উদ্দীন সিফাত এক বিবৃতিতে বলেন, “এই হামলা আকস্মিক নহে, ইহা পূর্বপরিকল্পিত। একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলিয়া দিতে চায়। তাহারা জানে, নাগরিক পার্টি ক্ষমতায় আসিলে দেশে দুধ ও মধুর নহর বহিবে, তাই তাহারা ঈর্ষান্বিত হইয়া আমাদের ওপর পটকা মারিয়াছে। আমরা ইহার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দেশের সকল ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্বে নিয়োজিত সেনা ও পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে পটকাবাজদের ধরিয়া আনিয়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিবার আহ্বান জানাই। নতুবা এই ব্যর্থতার দায় তাহাদেরকেই লইতে হইবে।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রমনা থানার এসআই মিজানুর রহমান পাটোয়ারী অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্নভাবে দেখিয়াছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে ককটেল? জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সময় বাচ্চারা যে ধরনের পটকা ফুটায়, ইহা সেই রকম কিছু একটা হইবে। আমরা ঘটনাস্থল হইতে একটি আধপোড়া ‘তারা বাজি’র প্যাকেটও উদ্ধার করিয়াছি। তদন্ত চলিতেছে।”

এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টির এই পটকা-বিপ্লব আসলে একটি ‘ক্রাই ফর অ্যাটেনশন’। যখন কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের সমর্থন হারায় এবং নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চায়, তখন তাহারা এই ধরনের হাস্যকর কাণ্ডকারখানা করিয়া থাকে। ইহা অনেকটা স্কুলের সেই ছেলের মতো, যে ক্লাসে ফার্স্ট হইতে না পারিয়া শিক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বেঞ্চে শব্দ করে। তবে তাহাদের এই পটকা ফুটানোর ঘটনাকে হালকাভাবে দেখিলে চলিবে না। আজ যে পটকা ফুটিয়েছে, কাল হয়তো তারা ‘ককটেল’ ফুটাইবে। পরশু হয়তো দেশি বন্দুক বানাইবে। সকলের উচিত, এই বিষয়ে সজাগ থাকা।”

#, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *