রাজাকারের বয়ানে স্বাধীনতার ঘোষক: জিয়া থেকে অলি তারপর কি নিজামী?

রাজাকারের বয়ানে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া থেকে অলি তারপর কি নিজামী? The Declarer of Independence According to Rajakars From Zia to Oli, Is Nizami Next? রাজাকারের বয়ানে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া থেকে অলি তারপর কি নিজামী? The Declarer of Independence According to Rajakars From Zia to Oli, Is Nizami Next?

একাত্তরের পরাজিত শক্তি এখন ঠিক করছে কে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন! রাজাকারের বয়ানে স্বাধীনতার ঘোষক হয়ে গেল কর্নেল অলি আহমদ।

বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক কার্টুনুস: বাংলার রাজনীতি এক বিচিত্র সার্কাস, যেখানে জোকাররা মাঝে মাঝে রিং মাস্টারের চাবুক হাতে নিয়ে সিংহকে নাচানোর চেষ্টা করে। তবে এবারের খেলাটা একটু বেশিই জমজমাট। ইতিহাসের চাকাকে উল্টো দিকে ঘোরানোর এক মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে। ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে ৪ লাখ মা-বোনের ইজ্জত আর ৩০ লাখ বাঙালির রক্ত নিয়ে হোলি খেলেছিল, সেই চিহ্নিত অপশক্তি এখন স্বাধীনতার সার্টিফিকেট বিতরণ করছে। জুলাই ষড়যন্ত্রের পর ক্ষমতার গদিতে বসে এদের সাহস এতটাই বেড়ে গেছে যে, এরা এখন ঠিক করছে কে স্বাধীনতার ঘোষক আর কে নয়। এতদিন আমরা জানতাম, চোরের মায়ের বড় গলা, কিন্তু এখন দেখছি রাজাকারের গলায় স্বাধীনতার গান। ব্যাপারটা এমন যেন কসাইখানা থেকে বের হয়ে কসাই এখন পশুপ্রেমী সমিতির সভাপতি হওয়ার জন্য নমিনেশন পেপার জমা দিচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী নামক দলটি বাংলাদেশের রাজনীতির এক অদ্ভুত পরজীবী। এরা নিজেরা কখনোই সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সব সময় কোনো না কোনো হোস্ট বা বাহকের কাঁধে ভর করে এরা টিকে থাকে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় এরা গর্তে লুকিয়ে ছিল, এরপর জিয়ার কাঁধে চড়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়েছে। এতদিন এদের স্ট্র্যাটেজি ছিল খুব সিম্পল, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অস্বীকার করার জন্য মেজর জিয়াউর রহমানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা। যেহেতু ১৯৭১ সালে এদের ভূমিকা ছিল পাকিস্তানের পক্ষে এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে, তাই এদের নিজেদের কোনো হিরো নেই। তাই এরা এতদিন বিএনপির ঘাড়ে বন্দুক রেখে বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। তাদের ন্যারেটিভ ছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নন, জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষক। বিএনপিও মহা আনন্দে এই ছাগল দিয়ে হাল চাষ করেছে। কিন্তু হায়! রাজনীতির হাটে কোনো বন্ধুত্বই পার্মানেন্ট নয়। স্বার্থে টান পরলে পুরনো বন্ধুকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলতে এদের একটুও হাত কাঁপে না।

সম্প্রতি জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান এক বোমা ফাটালেন। তিনি চট্টগ্রাম গিয়ে আবিষ্কার করলেন, জিয়াউর রহমান নন, স্বাধীনতার আসল ঘোষক নাকি কর্নেল অলি আহমদ! ভাবুন তো একবার, যেই জিয়াউর রহমানকে পূজনীয় বানিয়ে জামায়াত এতদিন রাজনীতির মাঠে টিকে ছিল, তাকেই আজ তারা ‘এক্সপায়ার্ড’ ঘোষণা করে দিল। বিএনপির জন্য এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে? যেই সাপকে তারা এতদিন দুধ-কলা দিয়ে পুষেছে, সেই সাপ এখন ছোবল মারছে তাদেরই ইতিহাসের মূলে। জামায়াত এখন আর ভায়া-মিডিয়া বা থার্ড পার্টি ডিস্ট্রিবিউটরশিপে বিশ্বাসী নয়, তারা এখন সোল এজেন্ট চায়। জিয়াউর রহমান তো বিএনপির সম্পত্তি, সেখানে জামায়াতের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই তারা চিন্তা করল, এমন একজনকে দরকার যাকে পুরোপুরি ওন করা যায়। আর এই রিক্রুটমেন্ট প্রসেসে গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পেয়ে পাস করে গেলেন কর্নেল অলি আহমদ।

কর্নেল অলি আহমদ এক সময় বিএনপির প্রতাপশালী নেতা ছিলেন, পরে এলডিপি খুলে নিজের দোকান দিয়েছেন। কিন্তু রাজনীতির বাজারে তার দোকানের বেচাবিক্রি খুব একটা সুবিধাজনক ছিল না। শেষ বয়সে এসে লাইমলাইটে আসার জন্য তার হয়তো একটা শক্ত খুঁটির দরকার ছিল। আর জামায়াতের দরকার ছিল এমন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে, যাকে দিয়ে তারা নিজেদের একাত্তরের পাপ কিছুটা হলেও আড়ালে রাখতে পারবে। ব্যাস, সোনায় সোহাগা! একাত্তরের ঘাতক দল এখন এক মুক্তিযোদ্ধাকে হায়ার করে তাকে স্বাধীনতার ঘোষক বানাচ্ছে। এর চেয়ে বড় কৌতুক আর কী হতে পারে? যেই দলটা একাত্তরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিত, তাদের হত্যা করত, আজ সেই দলের আমির মাইকে ঘোষণা দিচ্ছেন কে স্বাধীনতার ঘোষক। এ যেন হিটলারের হাতে নোবেল শান্তি পুরস্কার তুলে দেওয়ার মতো ঘটনা।

জামায়াতের এই নতুন ইতিহাসের বয়ান আসলে খুব গভীর এক ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা জানে, বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের সেন্টিমেন্টে দুর্বল। তাই সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে এখনো খুব বেশি দূর আগানো যাবে না। তাই তারা স্ট্র্যাটেজি বদলেছে। তারা এখন ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি’ সাজার চেষ্টা করছে। আর এই কাজে তাদের প্রধান বাধা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে হলে বা খাটো করতে হলে একজন বিকল্প হিরো দাঁড় করানো জরুরি। এতদিন সেই হিরো ছিল জিয়া। কিন্তু জিয়ার লেগাসি এখন দুর্বল, তাছাড়া বিএনপিও জুলাই ষড়যন্ত্রের পর কোণঠাসা। তাই জামায়াত ভাবছে, এখনই সময় নিজেদের মতো করে ইতিহাস লেখার। তারা কর্নেল অলিকে সামনে এনে বলতে চাইছে, “দেখো, আমাদের দলেও (বা আমাদের জোটে) স্বাধীনতার ঘোষক আছে, আমরাও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি!” অথচ এই অলি আহমদ যখন স্বাধীনতার ঘোষণা (তাদের দাবি অনুযায়ী) দিচ্ছিলেন বা যুদ্ধ করছিলেন, তখন এই জামায়াতের লোকেরা পাকিস্তানি সেনাদের মুরগি সাপ্লাই দিচ্ছিল আর গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছিল।

ইতিহাস কি এতই সস্তা যে চাইলেই বদলানো যায়? ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বর্বরোচিত হামলার পর ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে। সেই বার্তার ওপর ভিত্তি করেই আপামর জনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মেজর জিয়াউর রহমান ২৭শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সেই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন। তিনি নিজেই তখন বলেছিলেন, “আমি মেজর জিয়া, শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।” একজন পাঠক আর একজন ঘোষকের পার্থক্য বোঝা খুব রকেট সায়েন্স নয়। কিন্তু জামায়াত-শিবির চক্র এই সহজ সত্যটাকে গুলিয়ে ফেলার জন্য গত পঞ্চাশ বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা কখনো বলে জিয়া ঘোষক, এখন বলছে অলি ঘোষক। কদিন পর হয়তো বলবে তাদের গোলাম আযম বা নিজামীই আসলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু মাইক নষ্ট থাকায় কেউ শুনতে পায়নি!

এই যে কর্নেল অলি আহমদ, তিনিও কম যান না। এক সময় তিনি বিএনপির হয়ে জিয়ার গুণগান গাইতেন। এখন জামায়াতের স্টেজে দাঁড়িয়ে হয়তো ভাবছেন, শেষ বয়সে অন্তত একটা টাইটেল পাওয়া গেল। কিন্তু তিনি কি একবারও ভেবে দেখেছেন, কাদের হাত থেকে তিনি এই স্বীকৃতি নিচ্ছেন? যারা তার সহযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, যারা তার দেশের মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে, তাদের কাছ থেকে ‘ঘোষক’ উপাধি নেওয়া আর নিজের বিবেকের মুখে থুথু দেওয়া একই কথা। একজন বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হয়ে তিনি আজ রাজাকারের পুতুলে পরিণত হয়েছেন। ক্ষমতার লোভ বা শিরোনামে থাকার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে কতটা নিচে নামাতে পারে, অলি আহমদ তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। তিনি হয়তো ভুলে গেছেন, বা জেনেশুনেই ভুলে থাকার ভান করছেন যে, জামায়াত তাকে ভালোবাসে না, তাকে ব্যবহার করছে। টিস্যু পেপারের মতো ব্যবহার শেষে তাকেও ছুড়ে ফেলা হবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।

জামায়াতের এই ‘হায়ার এ ফ্রিডম ফাইটার’ প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা। তারা চায় এমন একটা প্রজন্ম তৈরি করতে, যারা আসল ইতিহাস জানবে না। যারা জানবে না যে এই জামায়াতই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। যারা জানবে না যে এই দেশটা কারো দয়ায় পাওয়া নয়, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে কেনা। তারা এখন অলিকে দিয়ে বলাতে চায়, “জিয়া কিছু না, আমিই সব।” আবার বিএনপি বলে, “অলি কিছু না, জিয়াই সব।” এই দুইয়ের কামড়াকামড়িতে আসল সত্যটা ধ্রুবই থেকে যায়, বঙ্গবন্ধুই এই জাতির পিতা, তিনিই স্বাধীনতার ঘোষক। বাকিরা সবাই সেই মহাকাব্যের চরিত্র মাত্র, কেউ নায়ক, কেউ খলনায়ক, আর কেউ পার্শ্ব চরিত্র। পার্শ্ব চরিত্রকে জোর করে নায়ক বানাতে গেলে সিনেমা ফ্লপ হতে বাধ্য।

আজকের এই পরিস্থিতিতে বিএনপির অবস্থাও দেখার মতো। তারা এতদিন জামায়াতকে কোলে পিঠে করে জীবিত রেখেছে। ভেবেছিল, জামায়াত তাদের ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু সাপকে দুধ কলা দিয়ে যে পোষ মানানো যায় না, সেটা তারা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। যেই জামায়াতকে তারা ধানের শীষের মার্কায় নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছিল, সেই জামায়াত এখন তাদের নেতা জিয়াউর রহমানকে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ এখন হাহাকার করছেন, বলছেন জামায়াত ইতিহাস বিকৃতি করছে। আরে ভাই, ইতিহাস বিকৃতির কারখানা তো আপনারাই চালু করেছিলেন! আপনারা যখন বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে জিয়াকে ঘোষক বানিয়েছিলেন, তখন কি ইতিহাস বিকৃতি হয়নি? আজ আপনাদের তৈরি করা ফ্রাঙ্কেনস্টাইন আপনাদের দিকেই তেড়ে আসছে। একেই বলে পয়েটিক জাস্টিস। আপনারা শিখিয়েছিলেন ইতিহাস বদলানো যায়, এখন জামায়াত আপনাদের সেই শিক্ষা আপনাদের ওপরই অ্যাপ্লাই করছে।

এই পুরো নাটকের স্ক্রিপ্ট রাইটার কারা, তা বুঝতে খুব একটা কষ্ট হয় না। জুলাই ষড়যন্ত্র পরবর্তী সময়ে যারা কলকাঠি নাড়ছে, তারা চায় বাংলাদেশকে পাকিস্তান স্টাইলে চালাতে। যেখানে ধর্মের নামে অধর্ম হবে, আর ইতিহাসের নামে গুজব ছড়ানো হবে। কর্নেল অলি এখানে কেবল দাবার ঘুঁটি। তাকে সামনে রেখে জামায়াত তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তারা দেখাতে চায়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তাদের লোকেরাই নাকি লিড দিয়েছিল! এর চেয়ে বড় মিথ্যা আর হতে পারে না। জামায়াত তখন লিড দিয়েছিল ঠিকই, তবে সেটা ছিল আলবদর আর আলশামস বাহিনীর। তারা লিড দিয়েছিল হত্যা আর লুন্ঠনের। সেই কালো অধ্যায়কে সাদা করার জন্য তারা এখন অলির মতো ডিটারজেন্ট ব্যবহার করছে। কিন্তু রক্তের দাগ কি এত সহজে মোছে?

মজার ব্যাপার হলো, জামায়াতের এই নতুন আবিষ্কার নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসাহাসি ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না। মানুষ জানে, এটা একটা পলিটিক্যাল স্টান্ট। তবুও এর একটা বিপদ আছে। একটা মিথ্যাকে বারবার বললে সেটা অনেকের কাছে সত্য মনে হতে পারে। বিশেষ করে যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভালো করে জানে না, তাদের মগজধোলাই করার জন্য এই প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। তারা চায়, মানুষ ভুলে যাক যে জামায়াত যুদ্ধাপরাধী দল। তারা চায়, মানুষ ভাবুক জামায়াতও স্বাধীনতার অংশীদার। এই নির্লজ্জ দাবির বিরুদ্ধে প্রতিটি সচেতন নাগরিকের সজাগ থাকা দরকার।

পরিশেষে বলতে হয়, ইতিহাস কোনো ফিকশন বা উপন্যাস নয় যে যখন খুশি তখন প্লট চেঞ্জ করে দেওয়া যাবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, ২৬শে মার্চের ঘোষণা এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, এগুলো পাথরে খোদাই করা সত্য। জামায়াত হাজারটা অলি ভাড়া করলেও এই সত্য মুছতে পারবে না। তারা হয়তো কিছুদিনের জন্য বিভ্রান্তি ছড়াতে পারবে, কিছু সুবিধাবাদী মুক্তিযোদ্ধাকে কিনে নিতে পারবে, কিন্তু ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগকে অপমান করার ক্ষমতা তাদের নেই। বিএনপির উচিত আয়নায় নিজেদের মুখ দেখা। তারা যে বীজ বপন করেছিল, আজ তার বিষাক্ত ফল তাদেরই খেতে হচ্ছে। আর কর্নেল অলি? তার জন্য করুণা হয়। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়ে তিনি আজ রাজাকারদের তল্পিবাহক। ইতিহাসের পাতায় তিনি হয়তো থাকবেন, তবে বীর হিসেবে নয়, বরং বিভ্রান্ত এক ট্র্যাজিক হিরো হিসেবে, যিনি শেষ বয়সে এসে ভিলেনদের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে তার সত্য ইতিহাসের ওপর দাঁড়িয়েই, কোনো ভাড়াটে ঘোষক বা হাইব্রিড ইতিহাসের ওপর ভর করে নয়। ।”জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” এই স্লোগানই ছিল, আছে এবং থাকবে আমাদের অস্তিত্বের শিকড়ে; কোনো ষড়যন্ত্রই তা উপড়ে ফেলতে পারবে না।

#, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *