‘সংস্কার করে যাক না কটা দিন’ অ্যানিমেশন শর্ট ফিল্ম দেখে টিআইবির বোধোদয়

'সংস্কার করে যাক না কটা দিন' অ্যানিমেশন শর্ট ফিল্ম দেখে টিআইবির বোধোদয়। TIB's Realization After Watching the 'Songskar Kore Jak Na Kota Din' Animated Short Film. 'সংস্কার করে যাক না কটা দিন' অ্যানিমেশন শর্ট ফিল্ম দেখে টিআইবির বোধোদয়। TIB's Realization After Watching the 'Songskar Kore Jak Na Kota Din' Animated Short Film.

টিআইবির প্রশ্ন রাষ্ট্র সংস্কার কি সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকা বুলি?’: নেপথ্যে ভাইরাল অ্যানিমেশন শর্ট ফিল্ম ‘সংস্কার করে যাক না কটা দিন’।

বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক কার্টুনুস: রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির বিশাল কাঁচঘেরা অফিসে আজ সকাল থেকেই থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। অফিসের এসিগুলো ফুল স্পিডে চলছে, কিন্তু কর্মকর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আর বিন্দু বিন্দু ঘাম। তবে এই ঘামের কারণ বাইরের গরম নয়, বরং ভেতরের ‘হট নিউজ’। খবর রটেছে, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বা ‘স্বচ্ছতার ফেরিওয়ালা’ ইফতেখারুজ্জামান সাহেব আজ সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে ইউটিউবে একটি একটি এনিমেটেড শর্ট ফিল্ম দেখেছেন। ভিডিওটি দেখার পর থেকেই তিনি নাকি বারবার বিড়বিড় করে বলছেন, “সর্বনাশ! আমরা এতদিন যা গবেষণা করে বের করতে পারিনি, তা একটা কার্টুনে দেখিয়ে দিল! এ তো কার্টুন নয়, এ যে জাতির বিবেকের এক্স-রে রিপোর্ট!”

ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল হওয়া অ্যানিমেটেড শর্ট ফিল্মকে কেন্দ্র করে। ফিল্মটির নাম ‘সংস্কার করে যাক না কটা দিন’। গ্রামের নাম বাংলাদেশ, আর সেখানে ঝোলা কাঁধে এক জাদুকরের আগমন, গল্পটা আপাতদৃষ্টিতে শিশুতোষ মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ‘মেটাফোর’ বা রূপক অর্থ টিআইবির বাঘা বাঘা গবেষকদের ভিমরি খাইয়ে দিয়েছে।

আজ শুক্রবার এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে টিআইবি তাদের গভীর হতাশা ও ক্ষোভ ঝেড়েছে। তবে এবারের ক্ষোভের কারণ শুধু দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের অধ্যাদেশ নয়। ভেতরের খবর হলো, টিআইবি বুঝতে পেরেছে, এই যে অনির্বাচিত ও অবৈধ ‘চিফ রিফর্মার’ ড. ইউনূস এবং তার পারিষদবর্গ সংস্কারের নামে যা করছেন, তা আসলে ‘সংস্কার করে যাক না কটা দিন’ অ্যানিমেশনের চিত্রনাট্যেরই হুবহু মঞ্চায়ন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে টিআইবির মুখপাত্র বলেন, আমরা এতদিন ভেবেছিলাম, সরকারের ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠন না করাটা হয়তো একটা অনিচ্ছাকৃত ভুল। কিন্তু আজ সকালে ‘সংস্কার করে যাক না কটা দিন’ শর্ট ফিল্মটি দেখার পর আমাদের ভুল ভেঙেছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এই সরকার আসলে ওই কার্টুনিস্টের আঁকা পথেই হাঁটছে। কার্টুনে যেমন জাদুকর তার ঝোলা থেকে খরগোশ না বের করে শুধু ‘সংস্কারের পুরনো ক্ষুর’ বের করে পাবলিকের পকেট শেভ করে দিচ্ছিল, বাস্তবেও আমরা ঠিক সেটাই দেখতে পাচ্ছি।

টিআইবি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তারা দুদকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের মতো একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক’ বা কৌশলগত সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সরকারের ভেতরে থাকা ‘সেভেন সোলস’ বা সাতজন রহস্যময় উপদেষ্টা নাকি এর ঘোর বিরোধিতা করেছেন। ইফতেখারুজ্জামান সাহেব তার চশমা মুছতে মুছতে বলেন, আপনারা ওই শর্ট ফিল্মটি খেয়াল করেছেন? সেখানে এক পণ্ডিত পথিক এসে গ্রামের মানুষকে শিখিয়ে দেয় ‘এই করে খাবি কয়দিন’ মন্ত্র। আমাদের মনে হচ্ছে, টিআইবিকেও এখন আর ভদ্র ভাষায় বিবৃতি না দিয়ে ওই অ্যানিমেশনের ভাষায় কথা বলতে হবে। আমরা সরকারকে পরিষ্কার জিজ্ঞেস করতে চাই, রাষ্ট্র সংস্কার কি শুধুই ফাঁকা বুলি? নাকি কার্টুনের মতোই প্যারিসের বিমানে ওঠার আগে ড. ইউনূস তার শেষ খেলাটা দেখিয়ে যাচ্ছেন?

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দল একমত হওয়ার পরেও কেন এই সুপারিশ বাদ দেওয়া হলো, তা নিয়ে টিআইবি সন্দিহান ছিল। কিন্তু সেই শর্ট ফিল্মটি দেখার পর তাদের কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেছে। শর্ট ফিল্মে দেখানো হয়েছে, জাদুকর আসলে সময়ক্ষেপণ করছেন আর বিদেশি ফান্ডের মুড়ি খাচ্ছেন। বাস্তবেও দেখা যাচ্ছে, সংস্কারের নামে কমিশন হচ্ছে, কমিটি হচ্ছে, কিন্তু কাজের কাজ বা ‘ডেলিভারি’ জিরো। টিআইবি মনে করছে, এই শর্ট ফিল্মটি আসলে কোনো সাধারণ বিনোদনমূলক ভিডিও নয়, এটি বর্তমান অবৈধ ইউনুস সরকারের অপকর্মের একটি ‘ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টারি’ বা প্রামাণ্য দলিল।

টিআইবির এক গোপন সূত্র জানিয়েছে, তারা এই শর্ট ফিল্মের নির্মাতাকে ‘দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার’ বা ওই জাতীয় কোনো সম্মাননা দেওয়ার কথা ভাবছে। কারণ, টিআইবি যা হাজার পাতার রিপোর্টে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে, এই নির্মাতা তা মাত্র সাড়ে আট মিনিটের অ্যানিমেশনে বুঝিয়ে দিয়েছেন। সূত্রটি আরও বলে, দেখুন, কার্টুনে যখন জনতা চিৎকার করে ওঠে ‘ওরে বাটপার, এই করে খাবি কয়দিন’, তখন আমাদের মনে হয়েছে এটাই তো বর্তমান সময়ের আসল স্লোগান! দুদককে জবাবদিহিতার বাইরে রেখে সরকার আসলে প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তারা কার্টুনের ওই জাদুকরের মতোই নিজেদের ‘আনটাচেবল’ বা স্পর্শাতীত ভাবছে।

সরকারের এই দ্বিমুখী আচরণের কঠোর সমালোচনা করে টিআইবি বলেছে, একদিকে তারা বলছে সংস্কার চাই, অন্যদিকে সংস্কারের মূল চাবিকাঠি বা ‘কী-পয়েন্ট’ গুলো গায়েব করে দিচ্ছে। এটা কি স্ববিরোধিতা নয়? নাকি কার্টুনের সেই জাদুকরের মতো তারা ভাবছে, গ্রামের মানুষ (পড়ুন দেশের জনগণ) এখনো ‘সংস্কার করে যাক না কটা দিন’ মন্ত্র জপেই দিন পার করে দেবে? কিন্তু তারা ভুলে গেছে, অ্যানিমেশনের শেষ দৃশ্যের মতো জনগণ এখন আর মন্ত্র জপছে না, তারা এখন হিসাব চাইছে।

ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, স্যার, তাহলে কি আপনারা বলছেন যে ড. ইউনূসের সরকার ওই কার্টুন ক্যারেক্টারের মতোই প্যারিস পালানোর ধান্দায় আছে? এই প্রশ্নের উত্তরে টিআইবির কর্তাব্যক্তিরা মুচকি হেসে বলেন, আমরা সরাসরি কিছু বলছি না। তবে ওই যে শর্ট ফিল্মে দেখলেন না? জাদুকর পচা ডিম আর টমেটোর ভয়ে সোজা প্যারিসের বিমান ধরল? ইতিহাস সাক্ষী, ফিকশন বা কল্পকাহিনী অনেক সময় বাস্তব ঘটনার ‘প্রিকুয়েল’ বা পূর্বভাস হয়ে দাঁড়ায়। আমরা শুধু সরকারের মতিগতি পর্যবেক্ষণ করছি আর ওই শর্ট ফিল্মটি লুপে চালিয়ে দেখছি।

টিআইবির এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকেই এখন লুকিয়ে লুকিয়ে মোবাইলে ‘সংস্কার করে যাক না কটা দিন’ সার্চ করছেন। সচেতন মহলের মতে, টিআইবি এতদিন অনেক গুরুগম্ভীর ভাষায় কথা বললেও, এবার তারা তাদের হতাশা প্রকাশের জন্য যে ‘পপ কালচার’ বা এই অ্যানিমেশনের রেফারেন্স টেনেছে, তা এক কথায় অনবদ্য।

পরিশেষে টিআইবি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দুদককে যদি সত্যিই স্বাধীন না করা হয় এবং সরকারের ইশারায় নাচানো পুতুল বানিয়ে রাখা হয়, তবে কার্টুনের সেই পণ্ডিত পথিকের মতো আমরাও জনগণকে নতুন মন্ত্র শিখিয়ে দেব। তখন আর ‘সংস্কার সংস্কার’ বলে পার পাওয়া যাবে না। তখন রব উঠবে, এই করে খাবি কয়দিন!

এই বিবৃতির পর এটা স্পষ্ট যে, টিআইবি আর শুধু বিবৃতি দেওয়ার সংস্থা বা ‘স্টেটমেন্ট মেশিন’ হয়ে থাকতে চাইছে না। তারাও এখন বুঝে গেছে, জাদুকরের ভেলকিবাজি ধরতে হলে অ্যানিমেশনের লজিকই সেরা লজিক। আর ড. ইউনূসের এই অবৈধ জমানায় সংস্কার যে একটি বিশাল ‘প্রহসন’ বা ট্রাজিকমেডি ছাড়া আর কিছু নয়, তা বোঝাতে ওই শর্ট ফিল্মটিই এখন টিআইবির প্রধান হাতিয়ার।

#, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #, #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *